টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নির্যাতন
মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েই এখন ভয়, সাক্ষাৎকারে রুমি

শাহজালাল রুমি। ছবি: সংগৃহীত
‘কিসের নিরাপত্তা? কোনো নিরাপত্তা নাই আমার। আমি এখন সত্যিই ভয় পাচ্ছি। আপনার মেয়ের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটলে আল্লাহর কসম করে বলেন, আপনি কী করতেন? বাবা হিসেবে বসে বসে দেখতেন? নেক্সট জেনারেশনকে আপনারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমি আপনাদের এই প্রশ্নটা করে গেলাম।’
টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা এভাবেই তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার প্রতিবাদ করার পর থেকে হেনস্তা করা হচ্ছে তাকে। তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার মধ্যরাতে এক গণমাধ্যমে মোবাইল ফোনে দেওয়া অডিও সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান রুমি।
সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘আমি হচ্ছি বাংলাদেশের সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যক্তি ভাই। ১৭ লাখ টাকা চুরি করেছি, পকেটে করে নিয়ে আসছি, এসব ছড়ানো হচ্ছে। এ কোন রাষ্ট্রে আমি বাস করছি? তারা এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে কী কী বানাচ্ছে আমার নামে!’
ঘটনার পর থেকে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেন রুমি। মাদ্রাসার দারোয়ানের সঙ্গে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘দারোয়ান আমাকে বারবার অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে এক নেতার সঙ্গে কথা বলতে বলছিলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর আমি দারোয়ানের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।’
রুমি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও অপপ্রচার চলছে। তিনি অভিযোগ করে বললেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে।’
নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমি বলেছেন, ‘মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েই এখন ভয়। গত তিন দিনে আমি যা শিখেছি, তা গত ২৯ বছরে শিখি নাই। এ ঘটনার পর আমার সন্তানকে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর পাঠাব না।’
গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে থাপ্পড় ও মারধর করেন। পরে ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পর শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন। পরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়। ওই মামলায় ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাল্টা মামলা হওয়ার পর থেকে রুমি আড়ালে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশ ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
তবে রুমির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তার দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এই সাক্ষাৎকারে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।




