কালীগঞ্জে কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, গ্ৰেপ্তার বৃদ্ধ রিকশাচালক

সংসারের হাল ধরতে প্রতিদিনের মতো সেদিনও কাজে গিয়েছিলেন মা। তিন কন্যাকে ঘরে রেখে গার্মেন্টসের রাতের শিফটে যোগ দেন তিনি। কিন্তু সেই রাতই হয়ে ওঠে তার বড় মেয়ের জীবনের এক ভয়ংকর অধ্যায়ের সূচনা।
অভিযোগ উঠেছে, মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী এক বৃদ্ধ কিশোরীটিকে প্রথমে ভয়ভীতি ও প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে নির্যাতন করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে একই ঘটনা। অবশেষে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার পর প্রকাশ্যে আসে সেই ঘটনা।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগে আবদুর রহিম (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ মে) রাতে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়ার পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মঙ্গলবার (২৭ মে) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আবদুর রহিম কালীগঞ্জ পৌরসভার বালীগাঁও গ্রামের মৃত ওহাব আলীর ছেলে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি রিকশা চালাতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত। পরিবারের তিন মেয়েকে নিয়ে তিনি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৪ নভেম্বর রাতে তিনি কর্মস্থলে রাতের ডিউটিতে গেলে অভিযুক্ত রহিম বাড়িতে প্রবেশ করেন। প্রথমে নানা প্রলোভন এবং পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর থেকে বিভিন্ন সময় একই কৌশলে কিশোরীকে নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ভয়ে মুখ বন্ধ রাখলেও একপর্যায়ে তার শারীরিক পরিবর্তন স্থানীয়দের নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিশোরী অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে। এতে এলাকা জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার রাতে স্থানীয় লোকজন আবদুর রহিমকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-২৮ (৫) ২৬)।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় অভিযুক্তকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







