এবার শেরপুরেও জব্দ ঘোড়ার মাংস

শেরপুরে জব্দ ঘোড়ার মাংস। ছবি: আগামীর সময়
ঘোড়ার মাংস নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। কোথাও জবাই করা ঘোড়ার মাংস উদ্ধার হচ্ছে। কোথাও মিলছে মাথা, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি। আবার কোথাও ঘোড়ার মাংস গরুর মাংসের নামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।
চলতি মাসেই শেরপুর, জামালপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর ফুলহারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আস্ত ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওই এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে চক্রের সদস্যরা জীবিত ঘোড়াগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে জবাই করা একটি ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়।
ঝিনাইগাতী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, রাতেই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে ঘোড়ার মাংসের আলামত পাওয়া গেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কারবারিরা পালিয়ে গেছেন।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলবে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি চকবাজার এলাকায় একটি পিকআপ থেকে ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চালক ও হেলপারসহ পাঁচজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তিনজনকে ছয় মাস করে এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদের মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শুধু মাংস উদ্ধার নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘোড়া জবাইয়ের পর ফেলে যাওয়া দেহাবশেষও পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের শ্রীপুরে কর্ণপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের মুদিপাড়া এলাকায় গভীর জঙ্গল থেকে অন্তত ১২টি ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, নাড়িভুঁড়ি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ঘাস কাটতে গিয়ে এক কৃষক জঙ্গলের ভেতরে এসব পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে মানুষের ভিড় জমে। তারা পুলিশে খবর দেন।
এর কয়েক দিন আগে, গত ১৪ আগস্ট ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীদিয়া ব্রিজের নিচ থেকে তিনটি বস্তায় ঘোড়ার চামড়া ও একাধিক মাথা উদ্ধার করা হয়।
ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগে এর আগেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুরে এমন অভিযোগে মো. ডালিম মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তার কাছ থেকে জবাই করা পাঁচটি ঘোড়ার মাথা, লেজ, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল।
গত ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের ১০ নম্বর সেক্টরের ভাড়ারবাড়ী এলাকার একটি প্লট থেকে জবাই করা ৯টি এবং জীবিত ১১টি ঘোড়া উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, একটি অসাধু চক্র ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বিক্রি করে আসছিল।
এ ছাড়া গত ৩ এপ্রিল দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ছয়টি ঘোড়ার ৪১০ কেজি মাংস জব্দ করা হয়। উপজেলার গাজীপুর এলাকার একটি সুপারি বাগানে অভিযান চালিয়ে মাংসগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ, রুবেল ও রবিউল নামে তিনজনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য বন্ধের দাবি উঠেছে আদালতেও। গত ১১ মে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, একে খান হেলথ কেয়ার ট্রাস্ট ও অভিনেত্রী জয়া আহসান জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিটে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা ও প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব জানিয়েছেন, ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে সাড়া না পাওয়ায় রিটটি করা হয়।








