সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলা, মামলা দায়ের

সাংবাদিক কবির আহমদ। সংগৃহীত ছবি
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের সিলেট বিভাগীয় ইনচার্জ কবির আহমদ।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, শুক্রবার ভোলাগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে সিলেট শহরের উদ্দেশে রওয়ানা হন কবির। গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন গাজীপুর থেকে আসা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যটক। ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গাড়ি থেকে নামার পরপরই কবিরের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রায় দেড় বছর আগে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লুটের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় লোহার রেঞ্চ, দা ও লোহার পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার বুক, নাক ও মুখে গুরুতর জখম হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হামলার একপর্যায়ে কবিরের ব্যবহৃত একটি ভিডিও ক্যামেরা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব যন্ত্রে ভোলাগঞ্জে ধারণ করা ভিডিওচিত্র, ছবি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার সংরক্ষিত ছিল। পরে তাকে জোর করে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা গণমাধ্যমকর্মী, পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। তাদের প্রতিরোধের মুখে আহত কবির আহমদকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও দুই পর্যটক আহত হন।
এজাহারে বলা হয়েছে, কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. জাহিদসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ হামলায় ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ি ও একজনকে আটক করলেও পরে আসামির স্বজনরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাছ থেকে গাড়ি ও ওই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কবিরের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কবির আহমদের ভাষ্য, প্রায় দেড় বছর আগে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লুটের ঘটনা নিয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে কয়েকজনের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়। পরে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর মামলার এক আসামি ইকবাল হোসেনের বাবা দুলাল মিয়া ওরফে দুলা মেম্বারকে ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ বহিষ্কার করে। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং হামলার সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল।
মামলায় ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত হামলা উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কবির আহমদ। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উছমান গণি বলেছেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’






