ইউপি নির্বাচনের তফসিলের আগেই ভোটের হাওয়া সুনামগঞ্জে

আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তবে পৌরসভায় ভোট কবে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানায়নি কমিশন। দিন-তারিখ ঠিক না হলেও ভোটের হাওয়া লেগেছে সুনামগঞ্জের চার পৌরসভায়। মেয়র পদে ভোটের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন ২৭ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির একাধিক নেতা। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারাও রয়েছেন সে তালিকায়। কেউ দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ করছেন, কেউ দলীয় সমর্থনের অপেক্ষায়, আবার কেউ পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) জেলা শাখার সভাপতি শেরগুল আহমদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম, আব্দুল্লাহ আল নোমান, প্রয়াত মন্ত্রী ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে ইনান চৌধুরী এবং যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু।
বিএনপির দলীয় সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী শেরগুল আহমদ। তিনি বললেন, ‘অতীতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি।’ তিনি মনে করেন, প্রার্থী বাছাইয়ে অতীতের কর্মকাণ্ড, নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, জনগ্রহণযোগ্যতা ও জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল নোমানও দলীয় সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তার ভাষ্য, দুবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। দলের দুঃসময়ে ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। ভোটের প্রচারও শুরু করেছেন আগেভাগে।
জগন্নাথপুর পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের সবাই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তারা হলেন— উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এম এ কাদির, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুজাতুর রেজা, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সম্পাদক আবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র আব্দুল মনাফের ছেলে সেলিম আহমদ, বিএনপি নেতা আছকির মিয়া এবং আ.লীগ নেতা ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া।
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত ছাতক পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া মাজকুর পাভেল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামছুর রহমান শামছু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন ও জসিম উদ্দিন সালমান। এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী এবং আব্দুল ওয়াহিদ মজনুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে তাদের সমর্থকরা জানিয়েছেন।
দিরাই পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থী সাতজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রুদ্র মিজান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপির নেতা আবুল হাসনাত রিপন, একই কমিটির সদস্য মাঈদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র বিএনপির নেতা আহমদ মিয়ার ছেলে আজমল হোসেন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র বিশ্বজিৎ রায় ও মোশারফ মিয়া।
গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর ১৯ আগস্ট দেশের অন্যান্য পৌরসভার মেয়রদের সঙ্গে সুনামগঞ্জ পৌরসভার তৎকালীন মেয়র নাদের বখতকেও অপসারণ করা হয়। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। আইনগত বাধা না থাকলে আগামী নির্বাচনে তিনিও অংশ নিতে পারেন বলে তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
দলীয় সমর্থন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিএনপিতেও। দলের জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল হকের ভাষায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দলের প্রতি নিবেদিত, সৎ, যোগ্য এবং জনগণের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে— এমন প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা চলছে। যিনি দলীয় সমর্থন পাবেন, অন্য নেতাকর্মীদের তার পক্ষেই কাজ করতে হবে।
তবে নির্বাচনের সময়সূচি, অংশগ্রহণের পরিবেশ এবং দলীয় মনোনয়ন— এই তিন বিষয়ই এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিয়ার ভাষ্য, চার পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটার তালিকা ও ভোটকেন্দ্র-ভোটকক্ষ প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় কাজ গুছিয়ে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করেছে। তার ধারণা, ইউপি নির্বাচন শেষ হলে পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।



