ব্যাগভর্তি ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষক দম্পতি, ধরা হলো ধাওয়া করে

শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত স্বামী-স্ত্রী। একজন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক, অন্যজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। দুই হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ স্কুলশিক্ষক ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই রাজশাহীতে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় বিস্ময়ও প্রকাশ করলেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ।
গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম এলাকায় হাইটেক পার্কসংলগ্ন সড়কে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
আটক মো. আল আমিন রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামাজিকবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক। তার স্ত্রীও (৩৮) একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
‘বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার হতে পারে’ এমন তথ্য আগেই পেয়েছিলেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসান। বললেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতেই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও তথ্য ছিল যে—রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার হতে পারে। এ কারণে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়। বসানো হয় চেকপোস্টও।’
‘হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলকে আসলে দাঁড়ানোর সিগন্যাল দেওয়া হয়। তবে সংকেত অমান্য করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন চালক। পরে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালালে মোটরসাইকেলে থাকা ব্যাগ থেকে দুই হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়’—জানালেন এই কর্মকর্তা।
মেহেদী হাসান আরও বললেন, আটক ব্যক্তি রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রীও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. পারভেজ। তিনি বললেন, ‘রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের অভিযান চালানোর সময় উপস্থিত ছিলাম। মোটরসাইকেলে থাকা ওই দম্পতির সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল। ব্যাগের ভেতরে ইয়াবা উদ্ধার করতে দেখেছি।’
এদিকে সহকর্মীর আটকের খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামসুল হক। তিনি বললেন, আল আমিন তাদের প্রতিষ্ঠানের সামাজিকবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক। তার আটকের বিষয়টি তিনি প্রথম জানতে পেরেছেন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে।
‘বিষয়টি আমার জন্য, আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং সমাজের সবার জন্যই অত্যন্ত দুঃখজনক’, বললেন অধ্যক্ষ।



