শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি
দ্বিতীয় দিনের মতো এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জয়পুরহাটে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ— আগামীর সময়
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, সিলেবাসভিত্তিক ও বোধগম্য প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষা স্থগিত, প্রশ্নপত্রে ভুলের বিচার এবং বন্যাকবলিত শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট শহীদ চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আজ বুধবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে এ বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা, প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা, পরীক্ষার প্রশ্ন বোধগম্য ও সিলেবাসভিত্তিক করা, বন্যার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী মারুফ চৌধুরী পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে বললেন, ‘দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। দাবি না মানলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
একই সময়ে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করতে দেখা যায়।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুর রহমান জামাল বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে কোনো দাবিকে আমরা সম্মান জানাই। তবে রাস্তায় যেন যানজট না হয়, সে জন্য আমরা তাদের সঙ্গে সহাবস্থানে রয়েছি। সরকার তাদের বেশ কিছু দাবি মেনে নিয়েছে। এরপরও ছাত্রদের মধ্যে যেন কোনো কুচক্রী প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্কতা রয়েছে।’
জয়পুরহাট
জয়পুরহাটেও শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তার পদত্যাগ, পরীক্ষা স্থগিত এবং পুনর্বিবেচনার জন্য গ্রেস মার্কস দেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষে শহরের প্রধান সড়কের বাটার মোড় এবং পরে পাচুর মোড়ে কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
আন্দোলনস্থলে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বাগ্বিতণ্ডায় জড়াতে চান না বলে জানায় তারা।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জেসমিন নাহার বলেছেন, ‘চলতি পরীক্ষা স্থগিত করে পুনর্বিবেচনার জন্য গ্রেস মার্কস দেওয়াসহ তাদের বেশ কয়েকটি দাবি রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
তিনি আরও জানান, গতকালের দাবিগুলো জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে মিছিল বের করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় হাতে পরীক্ষা সামগ্রী নিয়েই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল বের করে বক্তব্য দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করে ‘গর্হিত’ কাজ করেছেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাকে আর দেখতে চান না বলেও জানান তারা।
সরকারি তোলারাম কলেজের পরীক্ষার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আল রাজ বলেছেন, ‘আমাদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না। আমরা চাই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। আপনি আমাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলেছেন। এই ফার্মের মুরগিরা শামীম ওসমানদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি না রাখলে আপনারা শিক্ষামন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। শিক্ষার্থীদের তাচ্ছিল্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। এই ধরনের শিক্ষামন্ত্রী আমরা চাই না।’
মিছিলটি চাষাঢ়া থেকে শুরু হয়ে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত গিয়ে বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার চাষাঢ়ায় এসে শেষ হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন বললেন, ‘শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে সড়কে নেমে আসে। আমরা তাদের বুঝিয়ে কথা বললে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।’
ভোলা
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। ‘জেলার সকল এইচএসসি পরীক্ষার্থী’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা বর্তমান শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কারের দাবি জানান।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দুপুরের আগ থেকেই ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে বিপুলসংখ্যক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে কুষ্টিয়ার মজমপুর মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার বেলা দুইটা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে কুষ্টিয়া শহরের প্রধান এই মোড়ে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তীব্র যানজটে সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন ‘তুমি কে আমি কে? ফার্মের মুরগি, ফার্মের মুরগি’।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আলিফ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারী বৃষ্টি আর বন্যার মধ্যে আমরা কীভাবে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেব? অনেক সহপাঠী কেন্দ্রে পৌঁছাতেই পারেনি। অথচ আমাদের দুর্ভোগের সমাধান না করে উল্টো দায়িত্বহীন মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা ফার্মের মুরগি নই যে খাঁচায় বন্দি থেকে সব মেনে নেব। যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।
ফেনী
শহরের ট্রাঙ্ক রোড বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আজ বুধবার দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তারা ট্রাঙ্ক রোডে অবস্থান করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী হাসান জামিল, মোহাম্মদ আরাফাত, রফিকুল ইসলাম, মহিপাল সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী রবিউল হক, আরিফুল ইসলাম ও সিটি কলেজ শিক্ষার্থী মো. রায়হান।
ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে অবস্থান উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, ৮০ থেকে ১০০ জনের মতো শিক্ষার্থী ট্রাঙ্ক রোডের খেজুর চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় পুলিশ চারদিকে সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। ঘণ্টা খানেক পর তারা বিক্ষোভ শেষে ট্রাঙ্ক রোড ত্যাগ করেন।




