তিন জেলার যোগাযোগে নতুন দুয়ার
- ১০.৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে
- নির্মাণে খরচ ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা
- ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না.গঞ্জ, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের অর্থনীতি ও জনজীবনে

নারায়ণগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে
সময় বাঁচানো, যানজট কমানো এবং শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করা— এই তিন লক্ষ্য নিয়েই শুরু হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। প্রায় ১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিতল সড়ক। শুধু একটি নতুন সড়কই নয়, এটি চালু হলে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের জুনেই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টি, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতায় পিছিয়ে যায় সময়সূচি। বর্তমানে কার্পেটিং, ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন ও কিছু অবশিষ্ট নির্মাণকাজ চলছে। পঞ্চবটি মোড়ে কিছু কাজ এখনো বাকি থাকলেও সংযোগ সড়কগুলোর কাজ প্রায় শেষ।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আশা, সেপ্টেম্বরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। নিচের ছয় লেনের সড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হতে পারে অক্টোবরে।
প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের শুধু দ্বিতল সড়কটি জুলাইয়ে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তার ভাষ্য, ‘এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৯৬ শতাংশ। টানা প্রায় ১৫ দিন বৃষ্টির কারণে বন্ধ রাখতে হয়েছে কাজ। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণের কিছু জটিলতাও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে বাধা সৃষ্টি করেছে। কার্পেটিং, ল্যাম্পপোস্ট বসানোসহ শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে এখন।’
ওয়াহিদুজ্জামান আশা করছেন, সেপ্টেম্বরে এলিভেটেড অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে পারবেন। নিচের সড়কের কাজ শেষ করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছি।
প্রকল্পের তথ্য বলছে, মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কের আওতায় সাত কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক দুই লেনে নির্মাণ করা হয়েছে। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নীত করা হয়েছে চার লেনে। পঞ্চবটি থেকে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে র্যাম্প রয়েছে ছয়টি। এর একটি অংশ বিদ্যমান সড়কের ওপর দিয়ে, আরেকটি অংশ নির্মিত হয়েছে নিচু ভূমির ওপর। শুধু উড়ালসড়ক নয়, পুরো করিডরকে কার্যকর রাখার জন্য যুক্ত হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি অবকাঠামো।
অবকাঠামোগত এই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীর একটি হবে শিল্প খাত। নারায়ণগঞ্জ বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিকেএমইএর সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেলের ভাষায়, ‘ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীতেই প্রায় সাড়ে ৩০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চার লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ও কর্মজীবী মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘ যানজট ও দুর্বল সড়ক ব্যবস্থার কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ত, সময়ও নষ্ট হতো।’
শিল্পের পাশাপাশি প্রশাসনও প্রকল্পটিকে দেখছে এ অঞ্চলের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে। ‘ভূমি অধিগ্রহণের অধিকাংশ জটিলতা এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। যেসব বিষয়ে এখনো সমস্যা রয়েছে, সেগুলোও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে’— বললেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির।
জেলা প্রশাসক মনে করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে অর্থনীতি ও জনজীবন— উভয় ক্ষেত্রেই।






