কখন জানি কী হয়!

দুপুরের রোদ তখনো পুরোপুরি নরম হয়নি। বইখাতা কাঁধে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদ। তার সামনে কাঁপতে থাকা বাঁশের সাঁকো, নিচে বয়ে চলা বুড়াইল নদী। এক হাতে বই, অন্য হাতে বাঁশের হাতল শক্ত করে ধরে পা ফেলছিল সে। সামান্য অসতর্ক হলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তবুও এ পথেই প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় তাকে। কারণ বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দ্দা, নিজাম খাঁ ও লাটশালা গ্রামের মানুষের জীবন যেন আটকে আছে কয়েকটি নড়বড়ে সাঁকোর চক্রে। কখন জানি কী হয়— সেই ভয় নিয়েই বুড়াইল নদ পার হতে হচ্ছে ২০ হাজার মানুষকে।
নদের ওপর নির্মিত সাতটি সাঁকোর বেশিরভাগই জরাজীর্ণ। কোথাও বাঁশ পচে গেছে, কোথাও পাটাতন ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় ফাঁক। কোনো কোনো অংশ বেঁধে রাখা হয়েছে দড়ি দিয়ে। একসঙ্গে দুজন উঠলেই দুলতে থাকে সাঁকো। শিশু, নারী, বৃদ্ধ— সবার জন্যই এটি যেন প্রতিদিনের পরীক্ষা।
স্থানীয়রা বলছেন, ৪০ বছর ধরে তারা দাবি জানিয়ে আসছেন স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণের। নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতিও মেলে। তবে বাস্তবে হয়নি কোনো অগ্রগতি। ফলে মানুষের ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে দিন দিন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদ জানিয়েছে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তার খুব ভয় লাগে। ‘এক হাতে বই ধরি, আরেক হাতে বাঁশ। আস্তে আস্তে হাঁটতে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় পড়ে যাব’— বলে সে।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোয় প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে নতুন বাঁশ। যেসব জায়গায় পাটাতন উঠে গেছে সেগুলোও করা হচ্ছে মেরামত।




