‘এমপির প্যান্ট-টাই খুলে নিতে না পারলে আর রাজনীতি করব না’

ভিডিও থেকে নেওয়া
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম। গত ৮-৯ মাসে সংসদ সদস্য কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, তার হিসাব ও ব্যাংক ড্রাফটের নম্বর দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যের ‘প্যান্ট-টাই খুলে নেওয়ার’ হুমকিও দিয়েছেন এই বিএনপি নেতা।
সোমবার সন্ধ্যায় মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন রবিউল আলম। তার বক্তব্যের ৫ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রবিউল আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি শুনেছি, একটি প্রোগ্রামে উনি (এমপি) নাকি বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা নাকি প্রত্যেকটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে টাকা চেয়েছি। আমাদের চিঠির বিনিময়ে জবাব দিক, কোন ইউনিয়নের কাছে আমরা টাকা চেয়েছি? আর এমপি সাহেব কার কাছে টাকা চেয়েছেন, তার প্রমাণসহ হাজির হব মহাদেবপুরের মানুষের কাছে। অপেক্ষা করেন, ওর (এমপি) প্যান্ট-টাই এই মহাদেবপুরের মাটিতে আমি যদি খুলে নিতে না পারি, আর কোনো দিন রাজনীতি করব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহাদেবপুর-বদলগাছীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ দুর্নীতিবাজ এমপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। মহাদেবপুরে বিএনপির নামে অফিস করা হয়েছে, সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আগামী ৭ নভেম্বরের প্রোগ্রামের পর ওই সাইনবোর্ড ওখান থেকে টেনে ফেলে দেওয়া হবে।’
রবিউল আলম বলেন, ‘এই ৯ মাসে উনি (এমপি) কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কোন ব্যাংক থেকে, ব্যাংক ড্রাফট হয়ে তার কাছে জমা হয়েছে, এই নম্বরসহ আগামী দিনে তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এত দিন বলি নাই, কারণটা হচ্ছে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।...আমাদের চেয়ারম্যান দরকার। যদি আমরা জনগণের জন্য কিছু করতে যাই, তাহলে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ দরকার। সেই কারণে আজকে কাজ শুরু করেছি।’
ভিডিওর শেষ দিকে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘বদলগাছীতে অনেকেই বলে সর্বোচ্চ দুর্নীতিবাজ নাকি সেলিম (সাবেক সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন ওরফে সেলিম তরফদার)। সেলিম পাঁচ বছরে যা করেনি, আমার ধারণা এই ৯ মাসে এমপি তার চাইতে বেশি করেছে।...এক খাদ্য গোডাউন থেকে তিন কোটি টাকার ওপরে নিয়েছেন, ডকুমেন্টসহ চ্যালেঞ্জ করছি। এই সারের ডিলারশিপ থেকে নিয়েছে, আরও কোথায় থেকে নিয়েছে জানি। কোনো কাজ হয়নি, সেই কাজের বিল কীভাবে হয়েছে, সব হিসাব হবে; সময়মতো হিসাব দেওয়া হবে।’
ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহাদেবপুরে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালন করার জন্য বিএনপির প্রস্তুতি সভা ছিল। ওই সভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছিলাম। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বলেন, ‘রাজনীতি করলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলবে। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন। বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তাই লুকোচুরির কিছু নেই। তিনি (অভিযোগকারী বিএনপি নেতা) প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন। সাংবাদিকেরাও স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো প্রতিবেদন করতে পারেন।’
উল্লেখ্য, ফজলে হুদা বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।




