কালীগঞ্জের বিতর্কিত ওসি জেল্লালকে প্রত্যাহার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার সদ্য প্রত্যাহার ওসি জেল্লাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
কখনো সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়া, কখনো মাদক কারবারির কাছ থেকে মাসোহারা আদায় কিংবা গ্রেপ্তার আসামির ফোন-মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া। এসব অভিযোগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেনকে নিয়ে এলাকায় চলছিল সমালোচনা। অবশেষে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছানের সই করা চিঠিতে দেওয়া হয়েছে এই আদেশ। বলা হয়েছে, জেল্লাল হোসেনকে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে ওআর (অফিস রিজার্ভ) করা হয়েছে। আর পুলিশ লাইনের ওআর কবির হোসেনকে কালীগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন এসব নিশ্চিত করেছেন।
গত ১১ জুন কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয় নাজমুল হোসেন নামে এক যুবককে। তাকে আদালতে পাঠানোর সময় তার দুটি স্মার্টফোন নিয়ে নেন ওসি— উঠেছিল এমন অভিযোগ। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন হলে দুটি ফোনই ফেরত পান নাজমুল। পরে ঘটনা তদন্তে হয় বিভাগীয় কমিটি।
এর তিন দিন পর গ্রেপ্তার হন এলাকার আরেক মাদক কারবারি রুপালি খাতুন। গ্রেপ্তারের আগে এলাকার লোকজন তিনি বলছিলেন, ‘প্রশাসন আমার কিছুই করতে পারবে না। আমি প্রতি মাসে থানায় ৬০ হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করি।’
এ বিষয়ে ওসি জেল্লালের ভাষ্য ছিল, ‘কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না যে কালীগঞ্জ থানার কাউকে মাদকের একটি টাকা দিয়েছে। কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
গত ২৩ জুন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তা অস্বীকার করেন ওসি জেল্লাল। আবার বিজুর সমর্থকরা অভিযোগ করেন, বিজুর মোবাইল ও মানিব্যাগ পুলিশ নিয়ে গেছে।
ওসি জেল্লাল তখন বলেছিলেন, পুলিশ আসার খবরে বিজু পালিয়ে যায়। এ সময় তার মোবাইল পড়ে যায়। তবে কোনো মানিব্যাগ পাওয়া যায়নি।
এরপর ১৭ জুলাই ওসি জেল্লালের সামনে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি শাহরিয়ার আলম সোহাগ ও নাগরিক টিভির মিশন আলীর ওপর হামলা হয়। এ সময় ওসির বিরুদ্ধে হামলাকারীদের নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীদের সঙ্গে থানায় সালিশ বসানোর অভিযোগও ওঠে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মিশন আলী বললেন, ‘ওসির সামনে তার পেটুয়া বাহিনী সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে, আর ওসি তাদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করিয়ে দেয়। এই ওসির বিরুদ্ধে আসামির ফোন গায়েব, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসিক টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে।’
একের পর এক এসব ঘটনায় জেল্লাল হোসেন হয়ে উঠেছিলেন বিতর্কিত। তাকে প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয় অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ জানিয়েছেন।






