নওগাঁর চার খুনের ঘটনায় মামলা, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: আগামীর সময়
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এছাড়া মামলা করা হয়েছে এ ঘটনায়।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন।
আজ বুধবার সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
(ওসি) মাহবুবুর জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আলামতগুলো বিশ্লেষণ এবং পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তাতে মনে হচ্ছে জমিজমা-সংক্রান্ত এবং ওই পরিবারে আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরেই হয়েছে এই হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেছেন, ‘অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি গোপন রাখা হচ্ছে এ মুহূর্তে৷ এছাড়া ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টেলিজেন্সের সহায়তায়। নতুন করে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করলে পুলিশি হেফাজতে এনে করা হবে জিজ্ঞাসাবাদ।’
এদিকে গতকাল বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে। আজ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে মরদেহগুলো।
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) দিনগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে গলা কেটে হত্যা করা হয় একই পরিবারের চারজনকে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
ওসি জানান, সোমবার রাতের কোনো একসময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে মৃতদেহগুলো দেখতে পান তারা।
স্থানীয়রা জানান, জমিজমা
-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আগেও তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন, নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন, বড় বোন ডালিমা, মেজ বোন হালিমা, ভাগ্নে সবুজ রানা ও ভগ্নিপতি শহিদুল।



