শিবচরে দাম কম চামড়ার, লোকসানের শঙ্কা

মাদারীপুরের শিবচরে লোকসানের শঙ্কায় আছেন পশুর চামড়া ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় এবারও কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। চামড়া শিল্পে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার চলতি বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম বাড়ালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে না। ফলে দেশের চামড়া শিল্পে আবারও সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিবচরে এখন বড় গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, ছোট গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কয়েক বছর আগেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাজারের মন্দাবস্থার কারণে কমে গেছে এই সংগ্রহ। ফলে কোরবানির পর এলাকার লোকজন নিজেরাই ছাড়িয়ে নিচ্ছেন গরুর চামড়া। অসাবধানতা বা অনভ্যস্ততায় কেটে বা ফুটো হয়ে নষ্ট হচ্ছে চামড়া।
অনেক জায়গায় চামড়া অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবার।
স্থানীয় কয়েকজন মৌসুমী ব্যবসায়ী জানালেন, চামড়া কিনে লবণ লাগানো, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিটিয়ে মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিক্রি না হলে সংরক্ষণের অভাবে বিপুল চামড়া নষ্ট হবে বলে শঙ্কা তাদের।
শিবচরের পশুর চামড়ার ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার কথা, ‘চামড়ার বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকায় কেউ বড় আকারে সংগ্রহ করতে সাহস পাচ্ছে না। ট্যানারিগুলোর বকেয়া টাকা ও কম দামের কারণে ব্যবসায়ীরা বিপাকে আছেন।’
উপজেলার স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও চামড়া বিক্রি নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। প্রতি বছর এই আয় দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বড় খরচ মেটানো হয় বলে জানান তারা। বলছেন, এবার দাম কম থাকায় কমে যাবে আয়ও।
উপজেলার পশুর চামড়ার ব্যবসায়ীদের অন্যতম এলাকা বাহাদুরপুর বাজার। সরেজমিনে আজ দেখা গেল, মাঠে বেশ কিছু চামড়া নিয়ে বসে আছেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা। অভিযোগ করছেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কম দামে চামড়া কিনছেন বা অনেক ক্ষেত্রে নিচ্ছেনই না। ফরিদপুর থেকে ক্রেতা এলে বিক্রি কিছুটা জমবে বলে আশা তাদের।
শিবচরে অনেক বছর ধরে চামড়ার ব্যবসায় আছেন আয়লাল হক। এবার ঢাকার ট্যানারি মালিকদের চামড়া কেনার আগ্রহ কম বলে মনে করছেন তিনি।
‘আগে তারা অগ্রিম টাকা দিয়ে শিবচর থেকে চামড়া নিতেন, এবার সেই আগ্রহ নেই। তাই আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও হিসাব করে চামড়া কিনছি। অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক কম। অনেক পরিবার নিজেরাই চামড়া ছাড়াতে গিয়ে কেটে ফেলছে। তারপরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ খাত টিকিয়ে রাখতে আমরা ভালো চামড়াগুলো সংগ্রহ করে লবণ দিচ্ছি।’
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেছেন, ‘চামড়া সংরক্ষণের জন্য উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীলদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে বিনামূল্যে লবণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিবচরের চামড়াগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকবে।’






