এবার উত্তপ্ত তোলারাম কলেজ, ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষে আহত ৫

সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ। ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ঘটেছে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। আহত হয়েছেন দুইপক্ষের পাঁচজন। আজ বুধবার দুপুরে তোলারাম কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আয়োজনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বক্তব্য ঘিরে ছাত্রদলের সঙ্গে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে রড, লোহার পাইপ, লাঠিসোঁটা, বাঁশ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুপক্ষ। ছোড়া হয় ইটপাটকেলও।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেছেন, ‘তোলারাম কলেজ ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে তাদের জখম মারাত্মক না। ফতুল্লা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। দুইপক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।’
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
শিবির কর্মীদের অভিযোগ, কলেজে জুলাই অভ্যুত্থানের অনুষ্ঠান বক্তব্য দেন ছাত্রদল নেতারা। এরপর শিবির নেতাদের বক্তব্যের সময় তাদের ওপর হামলা হয়।
ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান বললেন, ‘কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রদল। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।’
তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়ার ভাষ্য, ‘তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা (শিবির) উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়েছে। আমরা বলেছি- এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল, সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। এজন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন আহমেদ ও রবিনকে ওরা মেরেছে।’
তিনি জানান, কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের তুহিন আহমেদ ও মো. রবিন আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুলহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান সংগঠনটির মহানগর শাখার সভাপতি অমিত।
জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে গত রবিবার থেকে দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে চলছে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ। এর রেশ দেখা গেছে আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও। সেখানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে দুইপক্ষের ১০ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।










