মতলবে চালুর আগেই সেতুতে ফাটল
- ব্যয় হচ্ছে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা

সংগৃহীত ছবি
চাঁদপুরের মতলবে নির্মিত সেতুটি এখনো খুলে দেওয়া হয়নি মানুষের চলাচলের জন্য। শেষ হয়নি নির্মাণকাজও। অথচ উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল। প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুর এমন চিত্র স্থানীয়দের শুধু বিস্মিতই করেনি, উদ্বিগ্নও করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্মাণে অনিয়ম এবং তদারকির অভাবে সৃষ্টি হয়েছে এমন পরিস্থিতির। তবে ঠিকাদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেছেন।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন, ‘২ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে সেতুটি। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে না সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হোক। প্রয়োজন হলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।’
স্থানীয়দের এমন অভিযোগের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ভিন্ন। প্রকল্পের ঠিকাদার মো. জহির দাবি করেন, সেতুর নির্মাণকাজের মান ঠিক আছে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, ভিত্তি নেই সেগুলোর।
প্রকল্পের তথ্য বলছে, মতলব পৌরসভার শহীদ উল্যাহর দোকান থেকে বড়দিয়া বাজার সড়কের ইছহাক মিজির বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে প্রায় ১০০ ফুট সেতু। আগে সেখানে ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কালভার্ট ছিল। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে প্রায় চার মাস আগে শুরু হয় নতুন সেতুর নির্মাণকাজ। একই প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে এই সেতুর গুরুত্বও কম নয়। প্রকল্পটি শুধু একটি সেতু নয়, পুরো এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু সেই উন্নয়নের স্বপ্নের মধ্যেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই তারা একাধিকবার অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে এনেছেন। কিন্তু অভিযোগ আমলে নেওয়ার পরিবর্তে তাদের করা হয়েছে নিরুৎসাহিত। এমনকি কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগও।
বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল প্রকৌশল বিভাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মতলব পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ফেরদৌস আহমেদের সঙ্গে দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এরপর উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্যে মিলেছে ভিন্ন ইঙ্গিত। মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান পৌর প্রশাসক কেএম ইশমামের ভাষ্য, বিষয়টি জানার পর ফাটল মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। পাশাপাশি এখন থেকে পুরো নির্মাণকাজ তদারকি করা হবে নিবিড়ভাবে।




