শরণখোলা
সড়ক নয়, যেন ডোবা!

ছবি: আগামীর সময়
পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানিতে সেই গর্তগুলোতে এখন হাঁটুসমান পানি। দেখলে মনে হয় ছোট ছোট ডোবা। ঝুঁকি নিয়েই এসব গর্ত পেরিয়ে চলাচল করছে অসংখ্য যানবাহন ও মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এমন বেহাল অবস্থা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের পাঁচরাস্তা মোড় থেকে বাংলাবাজার চৌকিদার বাড়ি পর্যস্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার কাজ হয়নি এই সড়কে। এর ফলে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ। এই সড়ক দিয়ে ধান ও কাঠবোঝাই ট্রাক, ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ শত শত যানবাহন চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এসব গর্তে আটকে আরো দুর্ভোগে পড়ে ভারী মালবাহী ট্রাকগুলো। এতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলাও ব্যাহত হয়।
প্রতিদিন এই সড়কের ওপর দিয়ে উত্তর কদমতলা, খাদা, বাংলাবাজার, মালিয়া, দক্ষিণ রাজাপুর, উত্তর রাজাপুর, রসুলপুর ও দীপচর গ্রামের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মজীবিসহ হাজার হাজার মানুষ তাদের কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারে যাতায়াত করেন। ভাঙা সড়কের কারণে কোনো রোগীতে হাসপাতালে নেওয়ার সময় হয়ে পড়েন আরো অসুস্থ। জরুরি চিকিৎিসার জন্য দ্রুত নেওয়াও সম্ভব হয় না। তবে বর্ষা মৌসুম এলেই আরো দর্ভোগ বেড়ে যায় তাদের।
ভ্যানচালক বিপ্লব বালা ও মো. মানিক জানালেন, গর্তে পড়ে প্রাই ভ্যান-ইজিবাইকের ক্ষতি হয়। কমে গেছে যাত্রীও। সব সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানান তারা।
খাদা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির নেতা তালুকদার মো. মধু বললেন, উপজেলার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা যা হয়েছে তাতে যানবাহন চলাচল দূরের কথা, পায় হেঁটেও চলার উপায় নেই। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে। দ্রুত সংস্কার করে সড়কটি চলাচল উপযোগী করার দাবি জানাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ সড়কগুলোর বেশি ক্ষতি হচ্ছে ভারি যানবাহন চলার কারণে। এসব সড়ক থেকে বড় বড় ট্রাক অতিরিক্ত মাল বোঝাই করে প্রতিনিয়ত চলছে। যা এসব সড়কের ধারণ ক্ষমতার বাইরে। ফলে দেখা যায় নির্মাণ বা সংস্কারের কিছুদিন পরই এসব সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। তাই গ্রামীণ সড়কে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে।
এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বললেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে অধিদপ্তরে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে সম্ভব হবে কাজ করা।







