আহত বন্য হাতির চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ

৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে মা হাতি। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির চিকিৎসায় বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাতিটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলেই হাতিটিকে বাঁচাতে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক চিকিৎসা কার্যক্রম।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেন এসব তথ্য।
তিনি জানান, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার একটি পাহাড় থেকে বন্য হাতিটি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। খবরটি জানার পর প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন, হাতিটির চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের অবহেলা না হয়। প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা নিশ্চিত করে প্রাণীটিকে সুস্থ করে তোলার ব্যবস্থাও নিতে বলেন তিনি।
আতিকুর রহমান আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর তিনি নিজেও চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করেছেন বলে তাকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আহত হাতিটির পেছনের দুই পা, বুক ও পেটে লেগেছে গুরুতর আঘাত। ইতোমধ্যে সেলাই দেওয়া হয়েছে ক্ষতস্থানে। বন বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে হাতিটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা।
এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া ও সদর বনবিটের শিয়াল্যাঘোনা-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ঘটে দুর্ঘটনাটি। বন বিভাগের তথ্যমতে, পাহাড়ে খাবারের সন্ধানে লতাপাতা খাওয়ার সময় টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটিতে হাতিটির পা পিছলে যায়। এতে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় প্রাণীটি। আঘাতের কারণে এরপর আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। ঘটনাস্থলেই মাটিতে শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে মা হাতিটি। স্থানীয় বাসিন্দারা আহত হাতিটিকে দেখতে পেয়ে বন বিভাগকে খবর দিলে টেকনাফ রেঞ্জের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
টেকনাফ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বললেন, ঘটনাস্থলে রয়েছে বন বিভাগের একটি দল। একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক হাতিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেওয়া গেলে হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে বলে আশাবাদী তারা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, হাতিটি বর্তমানে মাটিতে শুয়ে রয়েছে এবং খুব সামান্য নড়াচড়া করতে পারছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পা ও পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঘটনাস্থলে এসেছে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে হাতিটিকে আবার বনে অবমুক্ত করা হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সাফারি পার্কে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি বন্য প্রাণীর জন্যও ঝুঁকি বেড়েছে। আহত এই মা হাতিটির জীবন এখন চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার ওপরই নির্ভর করছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নিবিড় পরিচর্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে আবারও তার প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে যেতে পারবে হাতিটি।





