কৃষক যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পান

সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার তিনদিক বেষ্টিত ধলেশ্বরী নদী পেরিয়ে শেষ ইউনিয়ন আলীরটেক। গাড়িতে যোগাযোগের রাস্তা বলতে পশ্চিমের মুন্সীগঞ্জের বালুচর। গত ১১ জুনের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার খবর পৌঁছে গেছে আলীরটেক গ্রামের কৃষক শাহাদাত সরকারের কাছেও। অঙ্কের জটিল হিসাবনিকাশ না বুঝলেও বাজেটের পর নানা জায়গায় খরচ বেড়ে যায়, তা বেশ ভালোই বোঝেন তিনি।
বাজেট নিয়ে জানতে চাইলে শাহাদাত সরকার আগামীর সময়কে বললেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশ বাঁচলে, সরকার বাঁচবে। এ কথাটা বুঝতে হবে সব সরকারকে। দিনকে দিন নানা ছুতায় সারের দাম বেড়ে গেছে অনেক। বিদ্যুৎ থাকে না, তেলের দাম বেড়েছে। এসবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। কৃষকরা যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পান’
নিজের শঙ্কার কথা জানিয়ে শাহাদাত বললেন, ‘এবার ভুট্টা, লতি, পাট চাষ করেছি প্রায় দেড় একর জমিতে। নিজের শ্রম, শ্রমিকের টাকা বাদ দিয়ে খরচ উঠবে বলে মনে হয় না। আমাদের যে খরচ ওঠে না, লাভ হয় না, পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব— এসব সরকারকে ভাবতে হবে।’
নিজের গ্রাম আলীরটেক ইউনিয়নের উদাহরণ টেনে এই কৃষক বললেন, ‘আমরা না আছি নারায়ণগঞ্জে, না আছি মুন্সীগঞ্জে। অন্যপাশে কেরানীগঞ্জেও যেতে পারি না ভালো রাস্তার অভাবে। নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে আমাদের দূরত্ব কম। ধলেশ্বরী নদী পাড়ি দিতে হয় বলে কত ভোগান্তি পোহাতে হয়, বলে শেষ করা যাবে না। কত সরকার এলো-গেল, আমাদের এই দুরবস্থা দূর হয় না। যুগের পর যুগ নদী পার হতে কষ্ট করছে এই গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।’
প্রতি বছর ফসল করি। এমনিতেই দাম বাড়ছে সব জিনিসের। যাতায়াত ও পরিবহনের দুরবস্থায় লাভ তো দূরের কথা, পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমার মতো এই এলাকার হাজারো মানুষের সমস্যা একই’— যোগ করেন কৃষক শাহাদাত সরকার।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানালেন, নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চল জেলায় কৃষিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। খরচ না উঠলে, লাভ না উঠলে কেন করবে এসব? তার ভাষ্য, ‘এলাকার ছেলেদের বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে এখানকার কৃষক পরিবারগুলো। কারণ দেশে থাকলে খেয়ে-পরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভালো পড়াশোনা করানো যাবে না। তাই সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কৃষিকাজ ছেড়ে কেউ বিদেশ যাচ্ছেন, কেউ চাকরি-বাকরি করছেন, গ্রাম ছাড়ছেন।’
‘এবারের বাজেটে কৃষিপণ্য চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেলের ওপর উৎসে কর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ তথ্য জানানো হয় কৃষক শাহাদাত সরকারকে। তার প্রতিক্রিয়া, ‘এসব হিসাবনিকাশ বুঝি না। কৃষিমন্ত্রী ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে আহ্বান, কৃষিকাজে খরচ বেড়েছে। সারের দাম যেন না বাড়ানো হয়, তেলের দাম যাতে না বাড়ে, বিদ্যুৎ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে— এটিই প্রত্যাশা।’



