জনগণের সকল ক্ষমতা পার্লামেন্টের মাধ্যমেই চর্চা হবে: তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল নগরীর আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বরিশালে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। আজ বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নগরীর আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মন্ত্রী বলেছেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বললেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করেছিল। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সেই চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে।
আলোচনা সভায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি মহল গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদই দেশের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ক্ষমতার চর্চা সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক থাকলে তার নিষ্পত্তির একমাত্র স্থান সংসদ।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে দুর্বল অর্থনীতি, ক্ষতিগ্রস্ত সামাজিক কাঠামো এবং নানা সংকট উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। জনগণ এসব সংকট কাটিয়ে ওঠার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর অর্পণ করেছে। সেই দায়িত্ব পালনে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কোনো বাধার কাছে নতি স্বীকার করবে না।
এ সময় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপি ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও বৃদ্ধাশ্রমে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হয় বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।
দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বরিশালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা।







