কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া
সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্কুলছাত্রীর বাবা নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি পাশের গ্রামে জমি কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন রিপন মিয়া। ওই কিশোরী তার প্রতিবেশী।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে অভিযোগটি নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে।
সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান, স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন, দৌলত মিয়াসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। সালিশে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাত দিনের মধ্যে নির্ধারণ করা হয় অর্থ পরিশোধের সময়ও।
ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গ্রাম্য সালিসে নিষ্পত্তির ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তারা জানান, এ ধরনের অপরাধের বিচার আদালতেই হওয়া উচিত।
ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে রিপন মিয়া কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। পরে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় কৌশলে তাকে বাড়ির পেছনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে স্থানীয় দুজন বিষয়টি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া উপস্থিত লোকজনের সামনে বলেছেন, ‘আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’ ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বললেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করা উচিত হয়নি। এ ধরনের অপরাধের বিচার আদালতের মাধ্যমেই হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ওই কিশোরীর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলে তারা জেনেছেন। পরিবারের মামলা পরিচালনার সামর্থ্য না থাকায় এলাকাবাসী সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কলে বা হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করা যায়নি।
তবে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেছেন, ভুক্তভোগী কিশোরীর তাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। কিন্তু এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এলাকার কিছু মানুষ ঈর্ষাবশত তার স্বামীকে অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরীর বাবা মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।







