কলার ভেলায় টিসিবির পণ্য আনতে গেলেন সত্তরোর্ধ্ব সামছুল হুদা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদে টিসিবির পণ্য দেওয়া হবে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে টাকা জোগাড়সহ পণ্য নেওয়ার সব প্রস্তুতি নেন পশ্চিম ইছলী গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব সামছুল হুদা। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাড়ির চারদিকে থইথই করছে পানি। বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র সড়ক। চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েন তিনি; কিন্তু টিসিবির পণ্য আনতে না পারলে যে পরিবার নিয়ে উপোস থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত এ বয়সেই বাড়িতে থাকা কলাগাছ কেটে ভেলা তৈরি করেন। টাকা ও ব্যাগ নিয়ে সেই ভেলা চালিয়ে ওঠেন পার্শ্ববর্তী বাঁধে। তারপর দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যান ইউনিয়ন পরিষদে। শুধু সামছুল হুদাই নন, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তিস্তার পানি নেমে গেলেও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পরিবারগুলো আছে চরম দুর্ভোগে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায়। দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তখন পানিপ্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ভাটি এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। যদিও রাত থেকে ফের পানি কমতে শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানালেন, কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে ব্যারাজ পয়েন্টে বন্যার পানি বাড়া-কমা করলেও এ বছরে এই প্রথম পানিপ্রবাহ বিপৎসীমা অতিক্রম করে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায়। তবে রাত থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ওই পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৮২ সেন্টিামটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
সরেজমিন নদীপাড়ে দেখা যায়, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও চরগ্রামের রাস্তাঘাট এখনো পানির নিচে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি পানি ওঠা ঘরবাড়িগুলোয় থকথকে কাদা বিরাজ করছে। আপাতত বন্যার উৎকণ্ঠা কেটে গেলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি তাদের। বাড়ি থেকে কলার ভেলা চালিয়ে বাঁধে উঠে আসা সামছুল হুদা বললেন, ‘হামার কষ্ট বারো মাস বাহে। এক রাইতের পানিতে আস্তাটা (রাস্তা) তলে গেইল। এ্যালা হাট-বাজার বেড়াই ক্যামন করি!’
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানালেন, এটি মূলত উজান থেকে আসা ঢলের পানি। এক দিনের ব্যবধানে পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যেকোনো মুহূর্তে ফের ঢলের পানি এসে বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।




