ধুনট
পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার ধুনটে পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে মুন্নি খাতুন (৩৪) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী নুর সালামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুন্নি খাতুন শেরপুর উপজেলার মধ্যভাগ গ্রামের মুনজিল শেখের মেয়ে। আটক নুর সালাম ধুনট উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের এশার আলীর ছেলে। তাদের সংসারে সাগর ও সূর্য নামে দুই ছেলে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে নুর সালামের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় মাতবরদের উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠকও হয়েছে।
প্রায় তিন বছর আগে নুর সালাম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মথুরাপুরের পাশের মধুপুর গ্রামে আলতাব হোসেনের জামাতা আবু সাইদের বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। এ সময় স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত বলে সন্দেহ করতেন নুর সালাম। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ হতো। ঘটনার আগের রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরদিন সকালে আবারও কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নুর সালাম নিজ বাড়ি মথুরাপুরে চলে যান।
এদিন দুপুরে মুন্নি বাড়ির সামনে চুলায় রান্না করছিলেন। এ সময় সেখানে আরও কয়েকজন প্রতিবেশী নারী রান্না করছিলেন। একপর্যায়ে নুর সালাম ফিরে এসে মুন্নিকে ঘরের ভেতরে ডেকে নেন। সেখানে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেশী শিল্পী খাতুন জানান, মুন্নি ঘরের ভেতরে যাওয়ার পর আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে জানতে পারে, মুন্নিকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা থানায় খবর দেন। এ সময় বাড়ির প্রধান ফটক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। নুর সালাম ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরে পুলিশ বারান্দার টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পাশের টয়লেট থেকে নুর সালামকে আটক করা হয়।
ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।




