আগামীর সময়

আমার এক ছেলে জেলে, এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে : ফজলুর রহমান

আমার এক ছেলে জেলে, এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে : ফজলুর রহমান

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘মনটা আজকে ভালো নাই। আমার এক ছেলে জেলে, এটা ভাবতেও কষ্ট লাগে। আজকে এখানে মিটিং করতে এসে তার চেহারাটা দেখতে পাচ্ছি না, এটা আমার জন্য একটা কষ্টের ব্যাপার। সেই চেহারাটা হলো জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর।’

সম্প্রতি মিঠামইন অডিটরিয়ামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে জালেমদের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ করেছে তার মধ্যে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর অন্যতম। সে যে যুদ্ধটা করেছে- মায়ের কবরকে কেন্দ্র করে, বাবার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে, সমস্ত জমিজমা বিসর্জন দিয়ে, প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে।’

নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘একটা ভুলের কারণে জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। নিশ্চিত সে একটা ভুল করেছে তা না হলে দল এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে কেন? তারপরও আমি বলবো, যথেষ্ট হয়েছে। আমরা সবাই মিলে তাকে আবার নিয়ে আসব। এটা আপনারা নিশ্চিত থাকুন। আমি... আমি চাই।’

তিনি বলেন, ‘একদিনেই একটা মানুষের সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। সে আবার আসবে, রাজনীতি করবে, ভুল করেছে ভুলের শাস্তিও হবে। সেটা আমি অস্বীকার করি না। আমি দলের বিপরীতে যাইতে চাই না। কিন্তু জাহাঙ্গীর ফিরে আসুক, এটা আমি চাই।’

ফজলুর রহমান আরো বলেন, জাহাঙ্গীর আসলে এখানে থাকলে আমি আনন্দেচিত্তে কথা বলতে পারতাম। আমার একটা ছেলেকে জেলখানায় রেখে, সে আরও অসুস্থ, স্টোক করেছে, সেই স্টোকের রোগী জেলখানায় আছে; এটা ভাবতেও আমার কষ্ট লাগে। আমি আপনাদের বলি (জাহাঙ্গীর) তার জন্য দোয়া করবেন এবং সবাই মিলে চেষ্টা করবেন সে যেন বের হয়ে আসে।

উল্লেখ্য, উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই দিন বিকালে কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকা থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দলের প্রাথমিক সদস্যসহ তার সব পদ স্থগিত করা হয়।


    শেয়ার করুন: