আমতলী
একটি সেতুর অপেক্ষায় হাজারো মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
বরগুনার আমতলীর আমড়াগাছিয়া নদীর খেকুয়ানী বাজারসংলগ্ন স্থানে গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় আয়রন সেতুর স্থলে গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দীর্ঘদিন যাবৎ সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী থাকায় গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষকরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাত করণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে তরমুজের সিজনে তরমুজ পরিবহনে সমস্যার কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খরস্রোতা পায়রা নদীর শাখা আমড়াগাছিয়া নদীটি আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী, কুকুয়া ও আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে। এ নদীর সঙ্গে তিন ইউনিয়নের অন্তত এক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। একসময় নদী পারাপারে ১০টির বেশি খেয়া নৌকা চলাচল করত। কালের স্রোতে সেই খেয়া এখন ভেসে গেছে।
২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খেকুয়ানী বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি আয়রন সেতু নির্মাণ করেন। তবে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ছিল।
স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের মাত্র নয় বছরের মাথায় ২০১০ সালে সেতুটির বিম বাঁকা হয়ে যায় এবং সেতুটি দেবে যায়। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত ১৬ বছর ধরে গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছেন।
২০২০ সালে সেতুটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় এলজিইডি। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন কৃষকরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাত করতে না পারায় খেকুয়ানী বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, গুলিশাখালী ইউনিয়নে প্রতিবছর অন্তত ৫০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু সেতু দিয়ে তরমুজবোঝাই যানবাহন চলাচল করতে না পারায় পাইকারি ক্রেতারা এলাকায় আসতে চান না। এতে উৎপাদিত তরমুজ বাজারজাত করতে নানা সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা।
শুক্রবার আয়রন সেতুর স্থলে গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তোফাজ্জেল হাওলাদার।
বক্তব্য রাখেন দেলোয়ার মুন্সি, ফারুক হোসেন, মোশাররফ হোসেন মোল্লা, কবির পঞ্চায়েত, মোমেন আকন, মোস্তফা ঘরামী ও ইউপি সদস্য ছত্তার মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ২০০১ সালে খেকুয়ানী বাজারে আয়রন সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে। পাঁচ বছর আগে এলজিইডি সেতুটি অকেজো ঘোষণা করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বক্তারা আরও বলেন, গুলিশাখালী ইউনিয়নে প্রতিবছর প্রায় ৫০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদিত হলেও সেতুর কারণে তরমুজবোঝাই যানবাহন পারাপার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাইকারি ক্রেতারা আসছেন না এবং লোকসানের মুখে পড়ছেন তরমুজচাষিরা।
গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে দ্রুত গার্ডার সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ইদ্রিস মিয়া বলেন, আমড়াগাছিয়া নদীর খেকুয়ানী বাজারের আয়রন সেতুর স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং ডিজাইনের কাজ চলছে।



