ধামরাই
মৃত্যুর ৬ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো গৃহবধূর লাশ, তদন্তে পিবিআই

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার ধামরাইয়ে রুপা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর প্রায় ছয় মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তোলা হয়েছে মরদেহ।
আজ রবিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের জামিরা বাড়ি কবরস্থান থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় মর্গে।
নিহত রুপা উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমরাইল রামভদ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জাকির হোসেনের স্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে জাকির হোসেনের সঙ্গে রুপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জাকিরের চাচাতো ভাই ও পেশায় পুলিশ সদস্য শান্ত হাসানের সঙ্গে রুপার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পরিবার ও সমাজে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়।
সংসার টিকিয়ে রাখতে একপর্যায়ে জাকির পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাঘাইর গ্রামের মৃত নান্নু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় ওঠেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, সেখানে থেকেও শান্ত হাসানের যাতায়াত বন্ধ হয়নি।
গত বছরের ২৮ নভেম্বর রাতে ভাড়া বাসা থেকে রুপা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগের রাতেও শান্ত হাসানকে বাসায় ঢুকতে দেখে প্রতিবেশীরা বাধা দিলে তিনি চলে যান। পরদিন রাতে রুপাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হলেও নিহতের চার বছরের মেয়ে জিনিয়ার বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়। শিশুটির দাবি, শান্ত হাসান তার মাকে গলা টিপে হত্যা করে পরে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী জাকির হোসেন ধামরাই থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করে বলে অভিযোগ করেন। পরে সুষ্ঠু বিচারের আশায় তিনি ধামরাই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের স্বার্থে মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিদওয়ান আহমদ রাফি এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. খালেদ।
ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আকিব হোসেন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি পিবিআই তদন্ত করছে।
ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান উল্লেখ করেন, আদালতের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শান্ত হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে ফোন কেটে দেন।






