ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের, ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ সরকারের

ইলিশ মাছ। ছবি : রয়টার্স
ইলিশের এই ভরা মৌসুমেও দক্ষিণাঞ্চলের নদনদী ও মোকামগুলোয় দেখা মিলছে না ইলিশের। নাব্য কমে যাওয়া, সূক্ষ্ম ফাঁসের জালের নির্বিচার ব্যবহার এবং নদীতে ইলিশ ঢোকার স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়ায় দিন দিন উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমছে।
বরিশাল অঞ্চলের জেলে ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদনদীর বিভিন্ন স্থানে নাব্য কমে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সাগর ও নদীর মোহনায় পলি জমে চ্যানেল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে ডুবোচর। এতে নদীতে ইলিশ ঢোকার স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়ায় নদীতে ইলিশ মিলছে না।
এ ছাড়া বেহুন্দি, চায়না দুয়ারিসহ বিভিন্ন অবৈধ জালে জাটকা ধরা পড়ায় ইলিশের উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অতি সূক্ষ্ম ফাঁসের এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ, মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বেড়ে ওঠার সুযোগ কমেছে। এসব জালের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ, নদীর নাব্য ও পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইলিশের জীবনচক্রের সঙ্গে নদী ও সাগরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু নদী থেকে সাগর পর্যন্ত ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। নদীর তলদেশে পলি জমে কোথাও কোথাও চ্যানেল সংকুচিত হয়েছে; সৃষ্টি হচ্ছে ডুবোচর। এতে নদীর পানিপ্রবাহ ও গভীরতা পরিবর্তিত হচ্ছে। ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণপথে এর প্রভাব পড়ছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হক বলছিলেন, বেহুন্দি, চায়না দুয়ারিসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের ফলে ইলিশের উৎপাদন উদ্বেগজনহারে কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল-দূষণ হচ্ছে। সাগর ও নদীর সংযোগস্থলে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সাগর ও মোহনায় খনন করে নাব্য সংকট দূর করে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া ইলিশ আহরণ নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে অভিযান কঠোরভাবে পালন করে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে হবে।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেছেন, এবার ইলিশের উৎপাদন অনেক বেশি কমে গেছে। বেহুন্দি, চায়না দুয়ারিসহ বিভিন্ন অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সাগর ও নদীর মোহনায় নাব্য সংকটের দূর করতে মৎস্য বিভাগের প্রস্তাবে সরকার প্রথমবার শুধু ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে। এতে করে ইলিশ স্বাভাবিকভাবে নদীতে প্রবেশ করতে পারবে।







