কুমিরে টেনে নেওয়া শিশুর দাফন, নিরাপত্তা বাড়ানোর আশ্বাস প্রশাসনের

মাজারের দীঘিতে কুমিরের টানে নিহত শিশুর জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসকসহ এলাকার অনেকে। ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশুর দাফন হয়েছে দীঘিপাড়ের কবরস্থানে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারকে হস্তান্তর করা হয় সাত বছরের ফাতেমা আক্তারের মরদেহ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তার দাফন হয় দীঘির পূর্বপাড়ের কবরস্থানে।
জানাজায় অংশ নেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনসহ এলাকার অনেকে। এ সময় মাজারের দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তোলেন স্থানীয়রা।
বাগেরহাট পিসি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার বললেন, “হজরত খান জাহান আলীর (রহ.) সময়কার ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামের কুমিরের বংশ অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। পরে ভারত থেকে কুমির এনে এখানে ছাড়া হয়েছে। তাই মাজারে কুমির রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে ভাবা উচিত।”
বাগেরহাট সদরের বাসিন্দা মো. ফকরুল আহসান মনে করেন, ‘কুমির রাখতে হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া উচিত।’
‘ঐতিহ্যের অংশ’ হিসেবে মাজারে কুমির রাখার পক্ষে বাগেরহাট শহরের ব্যবসায়ী আসলাম শিকদার। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কুমিরের খাদ্য ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ হতে হবে বলে মত তার।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় দীঘির দুটি ঘাটকে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেছেন, ‘শিশু ফাতেমার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর মাজারে কুমির রাখার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দীঘির দুটি ঘাটকে ফেন্সিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে কুমির ঘাটের কাছে আসতে না পারে। পাশাপাশি চিড়িয়াখানার আদলে একটি নির্দিষ্ট বেষ্টনীর মধ্যে কুমিরটিকে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য, মাজার কর্তৃপক্ষ ও খাদেমদের সঙ্গে আলোচনা করে কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথাও উঠেছে আলোচনায়। কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানালেন ডিসি বাতেন।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দীঘির পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমাকে টেনে নেয় কুমির। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ভোরে মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
গত ৮ এপ্রিল একই দীঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয় ফেসবুকে। এ নিয়ে দেশ জুড়ে চলে আলোচনা।






