তিতাসের নতুন কূপ উদ্বোধন, দৈনিক মিলবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

সুহিলপুরে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: আগামীর সময়
দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
আজ শনিবার দুপুরে সুহিলপুরে এই গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) জানায়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কূপটি খনন করা হয়েছে। কূপ খননের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তি করা হয় ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল।
চুক্তি অনুযায়ী, তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। চলতি বছরের ১৯ জুন খননকাজ শেষ হয়। কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬১ মিটার (মেজার্ড ডেপথ) বা ৩ হাজার ৪৮৯ মিটার (ট্রু ভার্টিক্যাল ডেপথ)। পরবর্তী সময়ে কূপটির ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) ও উৎপাদন পরীক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজিএফসিএল জানায়, কূপটি খননে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এখান থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের গ্যাস সংকট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিজ্ঞপ্তিতে থেকে জানা যায়, জাতীয় গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সরকারের ১০০টি কূপ খনন পরিকল্পনার আওতায় বিজিএফসিএলের বিভিন্ন এলাকায় নতুন কূপ খনন, বন্ধ কূপ ওয়ার্কওভার এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। এটি ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি কর্তৃক আবিস্কৃত হয়।
দেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছিলো ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে। প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে।
সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয় ভোলায়, যার নাম ইলিশা-১। বর্তমানে দেশে চলমান প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে ৩০টি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি সংসদে জানান, বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এই চাহিদার বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গড় দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২,৬৫৪ এমএমসিএফডি।




