৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে কুলাউড়ায় চা-শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কুলাউড়ায় চা-শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ— সংগৃহীত
ন্যায্য মজুরি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে ফের উত্তাল মৌলভীবাজারের চা-বাগান। মজুরি বৃদ্ধিসহ ৩ দফা দাবিতে আজ শনিবার সকালে কুলাউড়ার দিলদারপুর চা-বাগানে প্রায় দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করে গণবিক্ষোভ করেছেন শতাধিক চা-শ্রমিক। এ সময় মিছিল নিয়ে বাগান এলাকা প্রদক্ষিণ করেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত চা-শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি অবিলম্বে কার্যকর করা, শ্রম অধিদপ্তরের অযাচিত ও অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করাসহ বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
বাগান পঞ্চায়েতের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সিতারাম কলের সভাপতিত্বে এবং বিকাশ পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গণবিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংস্কার কমিটির সদস্যসচিব জনক লাল দেশোয়ারা জনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ দোষাদ, চা শ্রমিক নারী ফোরামের নেত্রী গীতা রাণী কানু, বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি বিকাশ চাষা, ক্লিবডন চা-বাগানের শ্রমিক নেতা অজিত গোয়ালা, দিলদারপুর চা-বাগানের নারী শ্রমিক পঞ্চমী ভূমিজ, পূরবী রায়, পপি রিখিয়াপনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বললেন, চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি আর উপেক্ষা করা যাবে না। ৫০০ টাকা মজুরির দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব চা শিল্পের ওপরই পড়বে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরেই দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে দেশের বিভিন্ন চা-বাগানে আন্দোলন করে আসছেন চা-শ্রমিকরা। কিন্তু তাদের দাবি কোনো সময়ই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে না।





