পুনঃখননে প্রাণ পেল মুছার খাল

ছবি: আগামীর সময়
কয়েক বছর ধরে মৃতপ্রায় ছিল লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মুছার খাল। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় দুই পাড়ের কয়েক শ একর কৃষিজমিতে দেখা দেয় তীব্র সেচ সংকট। ফলে বছরের পর বছর কৃষি উৎপাদনে সমস্যার মুখে পড়তে হয় স্থানীয় কৃষকদের। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ আশপাশের বাসিন্দাদের।
সম্প্রতি খালটির প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মুছার খাল। এতে সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হয়েছে। ফলে এই ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষকের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মাধ্যমে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে।
খাল পুনঃখনন ও সংস্কার কাজ মূলত মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি'র আওতায় বাস্তবায়িত হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকার কর্মহীন মৌসুমে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমেয়াদী কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মুছার খালটি পুনঃখননের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার উত্তর সীমানা থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার পুনঃখননে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় দিনমজুরদের সম্পৃক্ত করে কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন চলছে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পাড় ও পাড়ের রাস্তা বাঁধাই এবং পাড়ের দুইপাশে গাছ লাগানোর কাজও চলছে প্রকল্পের মাধ্যমে।
স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম জানালেন, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে খুব কষ্ট হতো। অনেক সময় টাকা খরচ করেও ঠিকমতো ফসল ফলানো যেত না। এখন খাল খননের কারণে সহজে পানি পাচ্ছি। এতে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হবে।
আরেক কৃষক নুরুল ইসলামের ভাষ্য, বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের জমির ফসল নষ্ট হয়ে যেত। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকদের অনেক উপকার হয়েছে।
কৃষকরা জানান, আগে পানির অভাবে শুধু বর্ষা মৌসুমে একবার ধান চাষ করা সম্ভব হতো। এখন সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বললেন, মুছার খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার তৈরি হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে।




