‘দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসী-দখলবাজ-চাঁদাবাজদের দলে জায়গা হবে না’

ছবি: আগামীর সময়
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, কোনো দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, চাঁদাবাজ কিংবা অস্ত্রধারীর স্থান দলে হবে না। নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সততা, স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মনোহরদী ও বেলাব উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সময় স্বল্পতার কারণে দুই উপজেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় মনোহরদী ও বেলাব উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য সচিব, বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি দায়িত্ব ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে সবসময় এলাকায় থাকা সম্ভব হয় না। তবে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও বেশ কিছু উন্নয়নকাজ দৃশ্যমান হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার উন্নয়ন সমন্বয় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছে। এতে তার সরকারি ও সাংগঠনিক দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বল, নিরীহ ও অসহায় মানুষের জমিজমা দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে কাজ আদায় কিংবা দুই পক্ষকে খুশি রাখার রাজনীতি থেকে নেতাকর্মীদের বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে নেতাকর্মীদের জবাবদিহি করতে হবে। শুধু পদ-পদবি নিয়ে বসে না থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই হবে নেতাকর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।
সভায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, র্যালি, মাইকিং, পোস্টার ও ব্যানার প্রদর্শন, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ নিজ ইউনিয়ন ও এলাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পোস্টার-ব্যানার লাগানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির প্রচার বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দলীয় পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে নয়, প্রকৃতভাবে যারা সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাদেরই ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এ জন্য ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন তিনি।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়ানো যাবে না। এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি দলের ভাবমূর্তির ওপর পড়ে।
কৃষকদের সার সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে সার মজুত করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ডিলারদের মাধ্যমে সাব-ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থাও থাকবে। ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভা শেষে মন্ত্রী নেতাকর্মীদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দল ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন।








