উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে বাবাকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ, পরে কলেজছাত্রীর মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার তালায় এক কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তার বাবাকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ওই কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা নিলে এমন পরিণতি এড়ানো যেত। তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছিল।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে কলেজছাত্রী নীলা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে যাতায়াতের পথে ভুক্তভোগী নীলাকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২)। বিষয়টি নিয়ে নীলার বাবা লিটন শেখ অভিযুক্তদের অভিভাবকদের একাধিকবার জানিয়ে তাদের বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর অভিযুক্তরা লিটন শেখের বাড়িতে গিয়ে নীলাকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য হুমকি দেন এবং তাকে নিয়ে এলাকায় অপপ্রচার করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে প্রতিবেশী আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে নীলার বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরদিন ২ অক্টোবর দুপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে লিটন শেখকে ধরে নিয়ে একটি বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় আমজেদ শেখ, রকি, শোয়েব, ইমন, ইমরান ও আকলিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। বাবাকে বাঁচাতে নীলা ও তার মা দেলোয়ারা বেগম এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার দিনই তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আহত লিটন শেখ। পরিবারের দাবি, অভিযোগের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপরও নীলা ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি তাদের।
এর তিন দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় নিজ ঘর থেকে নীলার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় নীলার পা মাটিতে স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। তার গলায় ফাঁস লাগার স্বাভাবিক দাগও আমাদের চোখে পড়েনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘরে পাওয়া যায়নি। ফোনে কল দিলে রিং হচ্ছে, কিন্তু কেউ ধরছে না। আমাদের সন্দেহ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হয়তো আজ আমার ভাগ্নিকে হারাতে হতো না।
তবে নীলার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোমবার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও বিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে পরিবার অভিযোগ করছে। মৃত্যুর পর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে আগের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে কারও অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত।



