‘কবির ও টিপুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি’

সংগৃহীত ছবি
‘ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৫। রাত আনুমানিক ২টা। হঠাৎ আমাদের সামনে দিয়ে বরিশালের পুলিশ সুপারের গাড়ি অতিক্রম করে। তার পেছনে একটি মাইক্রোবাসও ছিল। আনুমানিক ১৫ মিনিট পর হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই। ... তখন আমি ও অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাস্তার ওপর কবির মোল্লা ও টিপু হাওলাদারের রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি। ঘটনাস্থলে বরিশালের পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার এএসআই মাহাবুল ও জসিমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি।’
এটি বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দি। গতকাল বৃহস্পতিবার এমন বর্ণনা দিয়েছেন ওই সময় আগৈলঝাড়া থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নজরুল বর্তমানে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত আগৈলঝাড়া থানায় ছিলেন। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ আমাদের ওপর রেগে যান। বলেন, ‘শালা তোরা এখন আসছিস কী জন্য? তোরা তো কিছু্ই করতে পারলি না। তোদের থানার সব অফিসার ও ফোর্সকে কবির মোল্লা ও টিপুকে ক্রসফায়ার দিতে বললাম, কেউ রাজি হয় না। তোরা কীভাবে চাকরি করস, চাকরি খাইয়াহালামু, এক শালারও এসিআর থাকবে না, এসিআরের বারোটা বাজিয়ে দিবো।’
পুলিশ সুপার এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসিমকে দেখিয়ে বললেন যে, ‘ওরা অনেক সাহসী লোক, তোরা ভীতু লোক, তোরা পারলি না, এজন্য দেখ উজিরপুর থানা থেকে তাদের নিয়ে আসছি। তাদের পুরস্কৃত করব।’




