কক্সবাজারে পাহাড়ধস, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের

কক্সবাজারে বেড়েছে পাহাড়ধস, স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন— সংগৃহীত
টানা চারদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অন্তত দুই হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। নতুন করে প্রাণহানি এড়াতে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান, মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত চার দিনের টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস, দেওয়ালচাপা ও পানিতে ডুবে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে অন্তত দুই হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং করে পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
আজ বুধবার দিনভর কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হাজীপাড়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। তিনি ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেন।
শুধু কক্সবাজার সদর নয়, জেলার রামু, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ অন্যান্য উপজেলাতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মাইকিং করছে। সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ধসের ঝুঁকি বহাল থাকতে পারে। তাই মানুষের জীবন রক্ষায় উদ্ধার অভিযান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





