আগৈলঝাড়ায় ‘অলৌকিক’ দুই কবর ভেঙে দিল প্রশাসন

নিজের হাতেই বানানো কবর ভাঙছেন সজীব
বরিশালে ঘরের মেঝেতে ‘অলৌকিক’ভাবে দুটি কবর জেগে ওঠার দাবি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে যায় উপজেলা প্রশাসন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ঘরের মেঝেতে তৈরি করা কবর দুটি নিজেই ভেঙে ফেলেন সজীব বেপারি। এ ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে মুচলেকাও দিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকালে আগৈলঝাড়ার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ওই বাড়িতে সরেজমিনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান। এ সময় তারা সজীব বেপারি ও তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে সজীব নিজেই কবর দুটি তৈরি করার কথা স্বীকার করেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তিনি কবর দুটি ভেঙে ফেলেন। তবে কী কারণে কবর দুটি তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারির ছেলে সজীব বেপারি প্রায় ছয় মাস ধরে ভাড়ে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেত।
গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টার দিকে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠার দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা। একই দিন রাত ১২টার দিকে প্রথম কবরের পাশে আরও একটি কবর জেগে ওঠে বলেও তারা জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, কবর দুটি বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনউদ্দিন চিশতীর।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবর দুটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। একই সঙ্গে সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল সাংবাদিকদের বললেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। মানুষ যেন কোনোভাবে প্রতারিত না হন, সেজন্য সজীব বেপারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই কবর দুটি তৈরির কথা স্বীকার করেন। পরে নিজের তৈরি কবর দুটি নিজেই ভেঙে ফেলেন।’



