আদালতে ঢুকে বিচারককে সেই ওসির ৩ স্যালুট

ওসি ফয়জুল আজিম নোমান। সংগৃহীত ছবি
ফেনীর দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম এন মোরশেদ খান। এবার সেই বিচারকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন জানিয়েছেন, গতকাল হঠাৎ করে আদালতে ঢুকে পড়েন ওসি। বিচারকের উদ্দেশ্যে তিনটি স্যালুট দেন এবং তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় ওসির উদ্দেশ্যে বিচারক বলেছেন, ‘আপনি এখানে কেন? আদালত যে আদেশ দিয়েছেন সেটা চূড়ান্ত।’
আদালত সূত্র জানায়, বিচারক এজলাসে ওঠার আগে তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ওসি। কিন্তু অনুমতি ছাড়া বিচারকের সঙ্গে দেখা করা যাবে না বলে ওসিকে জানান সংশ্লিষ্টরা। পরে বিচারক এজলাসে ওঠার পর তিনি সেখানে ঢুকে পড়ে স্যালুটের মাধ্যমে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ নিয়ে আদালত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওসি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বললেন, ‘আদালতের আদেশের কপি পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত রবিবার আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার এক নারী (২৪) তার স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ করেন। এ নিয়ে থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগকারীকে পরীক্ষা, তার জবানবন্দি এবং উপস্থাপন করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নিয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই আদেশে বলা হয়, ওই নারীর চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শারীরিক আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তার অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, তা বোধগম্য নয়।
ওই দিন শুনানির সময় আইনজীবীরা একই থানায় আরেক নারীকে (২২) যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে করা একটি মামলার বিষয় আদালতের নজরে আনেন। ওই মামলায় নারীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, এ দুটি ঘটনায় ওই কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে আলাদা দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয়টি তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত।






