রাজধানীতে সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে কমেছে ফেনীর গ্যাস

গ্যাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে শত শত যানবাহন। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের সরবরাহ। এর প্রভাবে টানা পাঁচ থেকে ছয় দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছে এই তিন জেলার বাসিন্দারা। অধিকাংশ বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। এতে রান্না থেকে শুরু করে যানবাহন চলাচল— সব ক্ষেত্রেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ হওয়ায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, আগামী সাত থেকে আট দিনের মধ্যেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
ফেনী শহরের বাদশা মিয়া সড়কের বাসিন্দা ও প্রবীণ শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসায় রান্না করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।’
একই কথা বলেছেন পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার হাজী হাবিবুর রহমান লেনের বাসিন্দা দিলরুবা আক্তার। ‘সারাদিন গ্যাস থাকে না বললেই চলে। মাঝেমধ্যে যে সামান্য গ্যাস আসে, তা দিয়ে রান্না করা সম্ভব হয় না।’
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রধান সরবরাহ লাইনে কিছুটা গ্যাস থাকলেও ভেতরের এলাকার লাইনে চাপ প্রায় নেই। এ কারণে গ্রাহকদের অসংখ্য অভিযোগের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের।
এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মহিপাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাচালক মো. মামুন বলছিলেন, সব স্টেশনেই একই অবস্থা। গ্যাস না পাওয়ায় অনেক চালক গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
ফেনী স্টার লাইন সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক বিপুল শর্মার ভাষ্য, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক চালক লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।
বাখরাবাদ গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক আখতারুজ্জামান বলেছেন, চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তাই তিন জেলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।আগামী সাত-আট দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মহাব্যবস্থাপক জাহিদ রেজা বলেন, একদিকে গ্যাস উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে রাজধানীতে সংকট দেখা দেওয়ায় সেখানে সরবরাহ বাড়াতে হয়েছে। এ কারণে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিতে হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।





