হৃদয় হরিজন হত্যা: নরসিংদী থেকে তিন আসামি গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
সিলেট নগরের কাষ্টঘরে হৃদয় হরিজন (৩৩) হত্যা মামলায় চার আসামির মধ্যে তিনজনকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ।
গতকাল নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন পাঁচদোনা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি আমিন আহমদ (৩৫) এখনো পলাতক।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইমন আহমেদ (২৬), রুমান আহমদ সাজ্জাদ (২৫) ও পারভেজ (২২)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর রাত আটটার দিকে সিলেট নগরের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সংলগ্ন রাজু স্টোরের বিপরীত পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় হৃদয় হরিজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত সাড়ে নয়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রধান আসামি আমিন আহমদ নিহত হৃদয়ের বর্তমান ঠিকানার ভবনের সামনে এসে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় হৃদয় তাকে ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমিনসহ অন্য আসামিরা তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার জের ধরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে হৃদয়কে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রাত আনুমানিক আটটার দিকে আমিন রাস্তা থেকে হৃদয়কে ডেকে রাজু স্টোরের বিপরীত পাশের ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার বাম পায়ের হাঁটুর ওপরের সামনের অংশ ও হাঁটুর পেছনে গুরুতর জখম হয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
পরে গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন পাঁচদোনা মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। ১৫ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় দুই, তিন ও চার নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ইমন আহমেদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা ও একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। রুমান আহমদ সাজ্জাদের বিরুদ্ধে চুরির দুটি মামলা ও দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আর পারভেজের বিরুদ্ধে চুরির পাঁচটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, পলাতক প্রধান আসামি মো. আমিন আহমদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা, মাদক ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পলাতক প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে বিধি অনুযায়ী পুলিশি পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



