নড়বড়ে বাঁশের সিঁড়িই ইছলাছড়া স্কুলে যাতায়াতের ভরসা

মৌলভীবাজারে বাঁশের সিঁড়ি বেয়ে উঁচু টিলার ওপর স্কুলে যাচ্ছে শিশুরা— সংগৃহীত
কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাওয়া-আসাই এখন রীতিমতো জীবন হানির ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। নড়বড়ে বাঁশের সিঁড়ি বেয়ে উঁচু টিলার ওপর স্কুলে ক্লাস করতে হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়নের ইছলাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও স্কুলটিতে পাকা রাস্তা কিংবা স্থায়ী সিঁড়ি নির্মাণ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিলার একপাশে বাঁশ আর কাঠ দিয়ে কোনোমতে তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। রেলিং নেই বললেই চলে। বৃষ্টি হলেই পিচ্ছিল হয়ে যায় ধাপগুলো। বর্ষা মৌসুমে পা পিছলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগেও টিলার বিভিন্ন পাশে বাঁশের সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু টিলা ধসে সেগুলো ভেঙে গেছে। বর্তমানে যে সিঁড়ি আছে সেটিও যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এ পথে প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাত-পা ভেঙেছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।
কয়েকজন শিক্ষার্থী বলছিল, আমরা খুব কষ্ট করে স্কুলে পৌঁছাই। সিঁড়ি পার হতে আমাদের খুব ভয় হয়। আমাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সময় পা পিছলে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। আমরা এর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিবা রানি কর জানালেন, বিষয়টি সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ((ইউএনও) বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। এটা স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত দারুণ আতঙ্ক বিরাজ করবে আমাদের মাঝে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবিনা ইয়াছমিন জানালেন, আমার ছোট ছেলে বাঁশের সিঁড়ি দিয়ে যেতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে আমি নিজেই দুই ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দেই। অবিলম্বে পাকা সিঁড়ি ও রেলিং নির্মাণের দাবি জানাই।
অভিভাবক লোকমান মিয়া ও এলিমা বেগম এর ভাষ্য, সব শিশুদের নিয়ে আমরা উৎকণ্ঠায় আছি। ৩২ বছরে একটি পাকা সিঁড়ি হলো না, এটা খুবই দুঃখজনক।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বললেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। পাকা সিঁড়ি অথবা রাস্তা নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত ইছলাছড়া স্কুলে স্থায়ী পাকা সিঁড়ি ও প্রবেশ সড়ক নির্মাণ করা হোক।





