কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে গুলিবর্ষণ, ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গুলি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এতে মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ আটক জিয়াউল হক জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামিদের নামের তালিকা প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। আদালতে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অন্তত ৭ রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ২০১৪ সালের একটি মারামারির মামলায় হাজিরা দিতে ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে আদালতে যান। হাজিরা শেষে আদালত ভবন থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় দুইটি মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে। এতে লিয়াকত আলীর চাচাতো ভাই মইন উদ্দিন (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রনিসহ আরও অন্তত পাঁচজন আহত হন। গুলিবিদ্ধ মইন উদ্দিনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর হামলাকারীদের একজনকে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাকে জিয়াউল হক জিয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক রুহুল আমিন আরেকটি মামলা করেন। দুই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক জিয়াউল হক জিয়াকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, হামলার পেছনের কারণ ও জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।






