কক্ষ সংকটে উত্তর শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্যাহত পাঠদান

গজারিয়ায় ১৬ নম্বর উত্তরশাহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কক্ষে সংকট স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ১৬ নম্বর উত্তর শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কক্ষসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে নির্মিত বিদ্যালয়ের একটি ভবনের চারটি কক্ষের বিম, ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় চলতি বছরের প্রথম দিকে তিনটি কক্ষে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাকি একটি কক্ষে ঝুঁকি নিয়েই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকেরা।
গ্রামীণ সড়কসংলগ্ন চারদিকে সীমানাপ্রাচীরঘেরা বিদ্যালয়টি বাইরে থেকে দেখতে বেশ সুন্দর। তবে ভেতরে রয়েছে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সমস্যা।
শিক্ষক ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে একতলা দুটি ভবনে মোট ছয়টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর পাশের ১৯৭৭ সালে নির্মিত ভবনের চারটি কক্ষই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ১৯৯৩ সালে নির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমা সিদ্দীকা শিলা সোমবার জানান, গজারিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে দুটি কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও শিখন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
একাধিক সহকারী শিক্ষকও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সকালের শিফটে প্রাক্-প্রাথমিকের ১৩ জন ও প্রথম শ্রেণির ১৭ জন শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে পাঠদান করাতে হয়। এতে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় শিফটে চতুর্থ শ্রেণির ২৫ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ১০ জন শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে পাঠ নিতে হয়। ফলে শ্রেণিভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনি ও হোসাইন আহমদ এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্নি ও তাজকিন জানায়, আলাদা কক্ষে পড়াশোনা করলে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। কিন্তু অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই কক্ষে বসে পড়তে গেলে পাঠ গ্রহণে মনোযোগ কমে যায়।
একাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষক ও পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকলেও কক্ষসংকটের কারণে শিশুদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত পাঠাতে হয়েছে।
বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৩০ শতক। তবে উত্তর পাশের পাকা ভবনের সামনে গ্রামীণ পাকা সড়কের বিপরীত দিকে দক্ষিণ পাশে থাকা জমির একটি অংশ নিচু হওয়ায় তা বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জমি থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সংকট কাটানো যাচ্ছে না।
সরেজমিন দেখা যায়, ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ একটি কক্ষকে প্রধান শিক্ষক ও চারজন সহকারী শিক্ষক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালে ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাতে হয় বলে জানান শিক্ষকেরা।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও বিদ্যালয়টিতে শিশুদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীনের বরাত দিয়ে দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি আধা পাকা টিনশেড ঘর নির্মাণের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের কক্ষসংকট দূর করে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।



