রাজৈর
চড়া দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

প্রতীকী ছবি
উপজেলা সদরে বসবাস করেও রান্নাবান্নার মৌলিক ও দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে রাজৈর উপজেলার সাধারণ মানুষের। নির্ধারিত সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে রাজি হলেও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। পৌরসভা ও উপজেলা সদরে পাকা বাসাবাড়িতে বসবাস করার কারণে বিকল্প হিসেবে কাঠের চুলা ব্যবহারেরও কোনো সুযোগ নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও আহার সংকটে পড়েছেন অনেকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলোতে গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ইউনিয়নগুলোর খুচরা বাজারে বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকায়, আর অন্যান্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৬০০ টাকায়। গ্রামাঞ্চলে চড়া দামে গ্যাস মিললেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা। পৌর শহরে সিলিন্ডারের সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে শত শত টাকা বেশি দিতে রাজি থাকলেও পৌর শহরের দোকানগুলোতে গ্যাস মিলছে না।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, মূল সংকট তৈরি হচ্ছে কোম্পানিগুলোর কেন্দ্রীয় ডিপো ও সরবরাহ লাইনে। আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের বাড়তি ভাড়া, ডলার জটিলতায় আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলায় বাধা এবং অল্প কয়েকটি বড় কোম্পানির ওপর বাজার নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় দেশের বাজারে এই সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোম্পানিগুলোর ডিপোতে দিনের পর দিন পরিবহন গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় বাড়তি ভাড়ার চাপ এসে পড়ছে খুচরা বাজারে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দাম হাঁকা হলেও সময়মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলার ও পাইকারি দোকানগুলোর সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ঘরে ফিরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফলে পৌর এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে টানা দু-তিন দিন ধরে রান্নাবান্নায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে ভোক্তাদের জিম্মি করে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রয় এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িত অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও বাজার তদারকি কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অন্যথায় এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করলে চরম মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।




