গাজীপুর
দুর্ঘটনায় হতাহত ৩৫ পরিবার পেল কোটি টাকার চেক

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন-সংক্রান্ত কর্মশালা শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১ কোটি ১ লাখ টাকার ৩৫টি চেক বিতরণ করা হয়।
কর্মশালায় ৩০ বছর বয়সী রুনা খাতুন এসেছিলেন তার দুই বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ৫ লাখ টাকার একটি চেক। ঠিক এক বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তার স্বামী।
রুনা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘স্বামীর ১৫ বছরের ড্রাইভিং অভিজ্ঞতাও ওনাকে বাঁচাতে পারল না। এই টাকা দিয়ে এখন আমি কী করব? আমি তো আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটাই হারিয়ে ফেলেছি।’
রুনার এখন একমাত্র লক্ষ্য পিতৃহীন সন্তানকে কোনোমতে মানুষ করা। কিন্তু স্বামীর শূন্যতা আর এই চেকে ঢাকা পড়বে না।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ তুলা শেখ। এই বয়সে যেখানে সন্তানের কাঁধে ভর দিয়ে তার চলার কথা, সেখানে তিনি এসেছেন তার আদরের সন্তানকে হারানোর পর অনুদান নিতে। এক বছর আগে এক ব্যস্ত রাস্তা পার হতে গিয়ে পিষ্ট হয়েছিল তার সন্তানের প্রাণ। বৃদ্ধ বাবার কাছে এই অনুদানের অর্থ তার সন্তানের স্মৃতির এক টুকরো করুণ স্মারক মাত্র।
চেকটি হাতে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি বললেন, ‘আমার যাওয়ার বয়স হয়েছিল, কিন্তু চলে গেল ছেলেটা। এমন দুর্ঘটনা যেন আর কোনো বাবার জীবনে কখনো না আসে।’
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইঁয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুনসহ জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, এনজিও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ফেরাতে জেলা প্রশাসক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে গাজীপুর জেলার মহাসড়কসংলগ্ন হকারদের অন্যত্র পুনর্বাসন করা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় বাইপাস সড়ক চালু ও হাইওয়েতে হুটহাট শ্রমিক আন্দোলনের সংস্কৃতি বন্ধে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণের মতো ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া।





