পর্যটকে মুখর রাজধলা বিল

ছবি: আগামীর সময়
ঈদুল আজহার ছুটিতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে নেত্রকোনার পূর্বধলার ঐতিহাসিক রাজধলা বিল। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রতিদিন ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। তবে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যেই সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সংকট এবং পর্যটন সুবিধার নাজুক চিত্র।
প্রায় ১৩০ একর আয়তনের রাজধলা বিলে একসময় ছিল স্বচ্ছ জলরাশি। দেশীয় মাছের প্রাচুর্যসহ এ বিল পরিচিত ছিল অতিথি পাখির সমাগমের জন্য। বিশেষ করে এখানকার চাপিলা মাছের সুখ্যাতি ছিল সুদূরপ্রসারী। এখন বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে আছে কচুরিপানায়। চাপিলাসহ অন্য দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না আগের মতো। শীত মৌসুমে তেমন একটা দেখা যায় না অতিথি পাখিও।
বিলকেন্দ্রিক পর্যটন অবকাঠামোর অবস্থাও বেশ নাজুক। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত মিনি পার্কের বেশিরভাগ রাইড রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল পড়ে আছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মিত এসব স্থাপনা এখন অনেক ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া পর্যাপ্ত শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
রাজধানী ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সজিব আহমেদ জানিয়েছেন, রাজধলা বিলের সৌন্দর্যের কথা শুনে এখানে এসেছিলেন। এসে দেখলেন, বিলের বড় অংশ কচুরিপানায় ভরে গেছে।
দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থাও। আগে পূর্বধলা সরকারি কলেজের ভেতর দিয়ে সহজেই বিলে যাওয়া যেত। সম্প্রতি সেখানে গেট নির্মাণ করে পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে পর্যটকদের।
এই বিলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুসং জমিদারদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে বিলঘিরে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। তবে যথাযত তদারকির অভাবে সেগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়নি। বিলটি ইজারা দেওয়া থাকলেও কচুরিপানা অপসারণ, জলাশয় সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছ রক্ষায় চোখে পড়ছে না কোনো কার্যকর উদ্যোগ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বিলপাড়ের সড়কে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরাধন চন্দ্র দাস বলেছেন, ‘বিলের চারপাশের সড়ক স্থায়ীভাবে পাকা করা এবং পরিকল্পিত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা গেলে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে রাজধলা বিল। এতে বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়ও।’




