বালু লুটে বিপন্ন পাহাড়ি জনপদ
- চুনারুঘাটে ছড়া ও সংরক্ষিত বন থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পাহাড়ি ছড়া, নদী, চা বাগান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাদদেশ থেকে লুট হচ্ছে মূল্যবান সিলিকা বালু। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে সরবরাহ করছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এতে শুধু খনিজ সম্পদ লুট হচ্ছে না; পাহাড়ি পরিবেশ, চা বাগান, বনাঞ্চল, বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পড়ছে ঝুঁকির মুখে। প্রশাসনের অভিযান চললেও এ অবৈধ বাণিজ্য থামানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তারা বলছেন, উপজেলার চণ্ডীছড়া চা বাগানের ছড়া, গাঁধাছড়া, গিলানিছড়া, মুড়িছড়া, করাঙ্গী নদী, সুতাং নদের দেওরগাছ, আতমলী ও বদরগাজি এলাকা, শানখলা ইউনিয়নের পানছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে তোলা হচ্ছে বালু। এসব বালু ট্রাক্টর ও ডাম্প ট্রাকে প্রথমে নেওয়া হয় অস্থায়ী ডিপোতে। পরে সেখান থেকে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণকাজে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর বালু তোলার ফলে নষ্ট হয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়াগুলোর স্বাভাবিক গঠন। অনেক স্থানে তীর ভেঙে পড়ছে, কোথাও কোথাও সড়কের অংশ বিলীন হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে চা বাগানের শ্রমিক কলোনি, আশপাশের বসতবাড়ি এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, চলতি বছরে হবিগঞ্জের কোথাও সিলিকা বালুর কোনো মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। জেলার তালিকাভুক্ত ২৩টি সিলিকা বালুমহালের একটিও বর্তমানে ইজারার আওতায় নেই।
অবশ্য স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ‘তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরীর ভাষ্য, রাতেও পরিচালনা করা হয়েছে মোবাইল কোর্ট। অনেককে দেওয়া হয়েছে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। তবে এ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য নেওয়া হবে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা।’






