সৌদিতে মেহেরপুরের ৭ যুবকের মানবেতর জীবন, বন্দি রাখার অভিযোগ

ভুক্তভোগী ৫ যুবক
মেহেরপুরে গাংনীর বিভিন্ন গ্রামের সাত যুবককে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভনে সৌদি আরবে নিয়ে আটকে রেখে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। আকামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দিয়ে একটি ঘরে আটকে রেখে তাদের দিনে একবেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও নির্যাতিতরা অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, গাংনীর পুরাতন মটমুড়া গ্রামের আকাশ উদ্দিন নামের এক আদম ব্যবসায়ী বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন গ্রামের যুবকদের কাছ থেকে জনপ্রতি সাড়ে পাঁচ লাখ করে টাকা নেন। পরে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে পরিবারগুলো তা পরিশোধ করে। মোট ৯ জন যুবককে প্রায় সাত মাস আগে সৌদি আরবে পাঠান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আকামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না করে একটি ঘরে আটকিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরে দালাল আকাশ দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ায় এবং নির্যাতনের মধ্যে পড়ায় ভুক্তভোগী যুবকরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিডিও বার্তায় নিজেদের কষ্টের কথা জানান, যা পরিবারের কাছে পাঠানো হয়।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, যুবকরা বর্তমানে বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে কোনোমতে জীবনযাপন করছেন। তাদের দিনে একবেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে এবং যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে স্বজনরা চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে দেশে ফিরে আসার পরও আকাশ উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তারা অভিযোগ করেন, দালালের বাড়িতে গেলে তাদের গালিগালাজ করা হয় এবং বিদেশে তাদের সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আকাশ উদ্দিন দাবি করেন, তিনি বৈধভাবে যুবকদের সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন এবং সেখানে তিন মাসের আকামা করা হয়েছে। তবে তারা কোনো কষ্টে নেই বলে দাবি করেন তিনি।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, পাঁচজন ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, বিদেশে নিয়ে গিয়ে যেসব যুবকদের হয়রানি করা হচ্ছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






