পৃথিবীর বহু উজ্জ্বল নায়ক বাবার কাছে ম্লান

ছবি: আগামীর সময়
বাবাই আমার সত্যিকারের নায়ক। পৃথিবীতে নানা ক্ষেত্রে বহু উজ্জ্বল নায়ক আমার বাবার কাছে ম্লান হয়ে পড়েন। আমার আকাশ জুড়ে বাবা নক্ষত্র হয়ে জ্বলজ্বল করেন। এমনটাই বলছিলেন সংগীতশিল্পী রোকেয়া ইয়াসমিন বর্ণা।
গতকাল রবিবার আগামীর সময় গোল্ড ক্লাব ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে ‘আমার নায়ক আমার বাবা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিকাল ৫টায় এ অনুষ্ঠান শুরু হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে।
অনুষ্ঠানে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বিশ্বনন্দিত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। তার বাবা বিজয় আইচ। তিনি তার বাবার স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘জন্মের জন্য মায়ের কাছে ঋণ স্বীকার করেই আমি আমার বাবার কথা বলতে পারি।’ এরপর তিনি বাবাকে নিয়ে নানান স্মৃতিচারণ করেন। জুয়েল আইচের স্ত্রী বিপাশা আইচ তার বাবার স্মৃতিচারণ করে বললেন, ‘আমার বাবা আমার বুকে বসবাস করেন।’
শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন তার বাবা বাসুদেব চন্দ্র গোপকে। দর্শকসারিতে বসা বাবার দিকে চেয়ে তিনি গেয়ে উঠলেন— ওই জানালার কাছে বসে আছি।
শিল্পী রোকেয়া ইয়াসমিন বর্ণা বাবাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আপনাদের পছন্দের দুটি গান গাইতে চাই। আপনারা বলেন কোন দুটি গান শুনতে চান।’ তিনি বাবাদের অনুরোধে দুটি গান গেয়ে শোনান।
স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোস্তফা মামুন। তিনি বলেছেন, “আমি আমার বাবাকে নিয়ে পাঁচ হাজার শব্দের একটি লেখা লিখেছি। লেখাটির নাম— ‘আমার সামান্য অসামান্য বাবা’। তারপরও মনে হয় কিছুই লেখা হয়নি।” তিনি তার মুক্তিযোদ্ধা বাবার জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। মোস্তফা মামুন গোল্ড ক্লাব সম্পর্কে বললেন, ‘আমরা প্রবীণদের পাশে থাকতে চাই। আমরা চাই সমাজে অভিভাবকত্ব ফিরে আসুক। একজন নিঃসঙ্গ মানুষ যদি আরেকজনকে পাশে পান, তবেই মনে করব আমাদের গোল্ড ক্লাবের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।’
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশীষ চক্রবর্তী বললেন, ‘আমাদের তেমন কিছুই ছিল না। আমরা একসময় চিন্তা করতাম আমার বাবার চিকিৎসা কীভাবে হবে। আমার বাবা ডায়ালাইসিস টেবিলেই মারা যান। তবে এখন আমরা অনেককেই সহায়তা করতে পারি।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, গোল্ড ক্লাবের সদস্যদের জন্য বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসা দেবেন।
কবি মোফাজ্জল করিমের উপস্থিতিতে তার কবিতা ‘নেশা’ আবৃত্তি করেন কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন। আবৃত্তির পর মোফাজ্জল করিম বললেন, ‘আমার বাবা ছাড়া কেউ নায়ক হতে পারেন না। প্রথমে মা পরে বাবা। বাবাদের খলনায়ক হলে চলবে না। তাদের হতে হবে নায়ক-মহানায়ক। এটা সম্ভব হলে সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। দেশের অবস্থা পাল্টে যাবে।’ তার সহধর্মিণী মমতাজ জাহান করিম স্বরচিত একটি কবিতা পাঠ করে শোনান।
প্রবীণরা কীভাবে ভালো থাকতে পারেন, আনন্দে থাকতে পারেন— সে বিষয়ে মনোচিকিৎসক ফারজানা রহমান মতামত তুলে ধরে বলেছেন, ‘প্রথমত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা চাই । দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা। তৃতীয়ত, শারীরিক সক্রিয়তা। চতুর্থত, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। সবচেয়ে বড় জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির চর্চা করা।’
বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল মাহবুব এ ধরনের আয়োজনে বহুমাত্রিককে পাশে রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান।
কন্যা মৃত্তিকা অনুষ্ঠানে উপস্থিত তার বাবার উদ্দেশে একটি রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনান। মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত বাবার কবিতা পাঠ করেন কন্যা পলি। অসীম রায় গেয়ে শোনান একটি গান।
শিশুসাহিত্যিক দন্ত্যস রওশন বলেছেন, ‘গোল্ড ক্লাব একটি দায়িত্বের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সমাজের চিত্র বলছে, প্রবীণদের থেকে, বাবাদের থেকে আমরা ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছি। তাদের দূরে ঠেলে দিচ্ছি। দূরকে কীভাবে নিকট করা যায়, তাদের জন্য কীভাবে একটি আনন্দময় মঞ্চ তৈরি করা যায় সেই দায়িত্ব পালন করছে গোল্ড ক্লাব।’
প্রবীণ সংগঠক ওয়াহিদ মুরাদ বললেন, ‘আমি গোল্ড ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। আমার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ক্ষমতা কাজে লাগাতে চাই।’
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপন করে একটি চিকিৎসা বুথ। তারা প্রবীণদের প্রেশার-সুগার পরিমাপসহ স্বাস্থ্য বিষয়ে নানা পরামর্শ দেয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব হোসেন আব্দুল মান্নান, জান্নাতুল বাকের খান, রশীদুল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশন।




