প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগর। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের পাশাপাশি সাজানো হয়েছে ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ। সফর নির্বিঘ্ন করতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান চট্টগ্রামের এই পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এর আগে সরকারপ্রধান হিসেবে জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে নগরীর কাজীর দেউড়ি, জামালখান, রহমতগঞ্জ ও আন্দরকিল্লাসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকে রং করা, ফুল ও গাছের চারা লাগানো এবং অবৈধ ব্যানার-পোস্টার সরানো হয়েছে। ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদেও অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
প্রস্তুতি তদারকি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। জে এম সেন হল পরিদর্শনে এসে মেয়র বলেছেন, চট্টগ্রামকে সম্প্রীতির নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। জে এম সেন হলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। সিআরবি মোড় থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।
জে এম সেন হল পরিদর্শনে এসে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জে এম সেন হলসহ দুটি ভেন্যুতে নিরাপত্তার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকে তিনি জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সন্ধ্যা ৭টায় সেখানে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি। কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।




