ধর্ষকের ‘প্রকাশ্যে ফাঁসি’ চান মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন- সংগৃহীত ফাইল ছবি
সাত দিনের মধ্যে বিচার শেষ করে ধর্ষকের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়ার পক্ষে নিজের মত তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে মেয়র পোশাককর্মীদের শিশুসন্তানকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষায় সব গার্মেন্টসে ডে-কেয়ার করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন চার শিশুকে দেখতে যান মেয়র। ওসিসি থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য তুলে ধরেন।
ধর্ষণের বিচারে আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বললেন, ‘যেসব পাষণ্ড এই ছোট্ট মাসুম বাচ্চাদের ধর্ষণ করছে বা ধর্ষণের চেষ্টা করছে, তাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলাতে হবে। ওপেন ঝোলাতে হবে, যাতে এই ধরনের সাহস আর কেউ না করে। এই ধরনের আইন দ্রুত প্রণয়ন করা উচিত। এসব মামলার আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাত দিনের মধ্যে তাদের বিচার শেষ করে শাস্তি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’
নগরীর বাকলিয়ার সাড়ে তিন বছরের এক শিশু, খুলশীর ১১ ও ৬ বছর বয়সী দুই বোন এবং চান্দগাঁওয়ের ৪ বছরের এক শিশু বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন আছে। মেয়র ওসিসির ডাক্তারদের বরাতে জানালেন, গত ৮ বছরে ৪২২ জন শিশু ওসিসিতে গেছে, যাদের বয়স ১২ বছরের নিচে।
তাদের সবার মা গার্মেন্টসে চাকরি করেন বলে জানিয়ে মেয়র বলেছেন, ‘তিন মায়েরই জব ডেসক্রিপশন সেইম। বাবা রিকশা চালায়। বাসায় দেখার মতো কেউ নেই। একজন আমাকে জানালেন, সকাল ৯টার দিকে সন্তানকে মাদরাসায় দিয়ে আসেন। রাতে গার্মেন্টস থেকে ফেরার সময় নিয়ে আসে। এর মধ্যে বাচ্চাটা মাদরাসায় থাকে। সেখানে খাবারদাবার দেয়।’
গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি ডে-কেয়ার সেন্টার বানানোর অনুরোধ জানান শাহাদাত। তার মতে, ‘গার্মেন্টস সেক্টর থেকে আমরা সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাই। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এই গার্মেন্টস সেক্টরের ওপর নির্ভর করছে। সেই গার্মেন্টসে যারা এত কষ্ট করে কাজ করছে, বাচ্চাকে বাসায় কিংবা মাদরাসায় রেখে, যারা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য রাত-দিন পরিশ্রম করছে, তাদের বাচ্চারা যদি নিরাপদ না থাকে সেটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। গার্মেন্টস মালিকদের জন্য একটা করে ডে-কেয়ার করা বড় কোনো ফ্যাক্টর না। ছোট ছোট বাচ্চারা সেখানে থাকবে, খেলবে। প্রয়োজনে টিচার রেখে বাচ্চাদের পড়ানো হবে। আরবি শিক্ষা হোক, বাংলা কিংবা ইংলিশ মিডিয়ামের হোক, এটা কোনো ফ্যাক্টর না।’
‘এত টাকা তারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন, সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত একটা ডে-কেয়ার সেন্টার করা তাদের জন্য কোনো বিষয় না। আবার আমি গার্মেন্টসের মালিক হয়ে শুধু টাকার পর টাকা বানাব আর আমার কারখানার কর্মীদের ছোট ছোট সন্তানরা বিশ্রি পরিবেশে বিশ্রি অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হয়ে উঠবে, এটা হতে পারে না’, যোগ করেন চসিক মেয়র।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি ডে-কেয়ার সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানালেন।
অভিভাবকদেরও সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়ে মেয়রের বার্তা, ‘কিছু কিছু মা ছোট বাচ্চাদের দোকানে পাঠান। সেখানে কিছু খারাপ লোকজন থাকে। তারা বাচ্চাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিপীড়ন করে। সুতরাং অভিভাবকদেরও সতর্ক হতে হবে।’
এসময় চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন ও চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের সঙ্গে ছিলেন।






