ডুবেছে ১০ হাজার জলাশয়, মৎস্যে ক্ষতি ৯১ কোটি

সড়কে মাছ ধরছেন শৌখিন মৎস্য শিকারীরা— আগামীর সময়
টানা বৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রামে প্রায় ১০ হাজার জলাশয় পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি ৯১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এখনো বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার পানি রয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী, লোহাগাড়া, আনোয়ারা ও সাতকানিয়া উপজেলায়।
১৫ উপজেলার ১৫৩ ইউনিয়নে জলাশয় ও মাছের ঘের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কয়েকদিন টানা বৃষ্টির পর এখনও তা থেমে থেমে অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি, খাল বিল, পুকুর সব ডুবে গেছে।
জেলা মৎস্য কার্যালয়ের হিসাবে এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর দিঘী ও জলাশয় ডুবে গেছে। এ ছাড়া ৩২০টি মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া জলাশয়ের পরিমাণ মোট ৪ হাজার ১১১ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি আড়াই হাজার জলাশয় ডুবে গেছে বাঁশখালীতে। এর পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় তিন হাজারের বেশি পুকুর জলাশয় বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এসব জলাশয়ের মাছ ভেসে যায়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম আগামীর সময়কে জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা ৯১ কোটি টাকা বেশি ক্ষয়ক্ষতির একটা তালিকা নিরূপণ করেছি। বন্যার পানি নেমে গেলে চূড়ান্ত তালিকা করা হবে। ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে। অনেক এলাকা এখনও পানিতে নিমজ্জিত।
বন্যায় ভেসে যাওয়া জলাশয়ের মধ্যে কিছু ছিল বাণিজ্যিক ও কিছু ব্যক্তি এবং সামাজিক পর্যায়ের। বাণিজ্যিক জলাশয় ও ঘের ভেসে যাওয়ায় বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষীরা। কর্ণফুলী, পটিয়া, মিরসরাই, আনোয়ারা ও বাঁশখালীতে এই ধরনের বাণিজ্যিক জলাশয় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি জলাশয়, আনোয়ারায় ১ হাজার ১০০, কর্ণফুলীতে ৫৫৭ জলাশয় ও চন্দনাইশে ৩৮৩ জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। বড় মাছ ভেসে গেছে ৩১২৩ টন। চিংড়ি ৫৭০ টন ভেসে যায়। এ ছাড়া প্রায় ৬০ লাখ পোনা ভেসে গেছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁশখালীতে ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। এ ছাড়া সাতকানিয়ায় ১১ কোটি টাকা, লোহাগাড়ায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা, কর্ণফুলীতে ৬ কোটি টাকা ও চন্দনাইশে ৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
১৫ উপজেলার মধ্যে অবকাঠমোগত ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৮৬ লাখ টাকার। পরিপূর্ণ মাছ বাবদ ক্ষতি হয় ৬৫ কোটি টাকা। পোনা বাবদ ক্ষতি ২৩ কোটি।
বন্যায় ঘর বাড়ি, জলাশয়ের পাশাপাশি মহাসড়কও তলিয়ে যায়। চট্টগ্রাম-কক্সাবাজার মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি ছিল। এসব এলাকায় জাল দিয়ে মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় শৌখিন মৎস্য শিকারীদের।





